জনগণ যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: জামায়াত নেতা।

তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২ জুন) সিলেট সদর উপজেলার নিহত শিশু ফাহিমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত মাসে জ্বালানি তেলের দাম ১২ শতাংশ বাড়ানোর পর এক মাসের ব্যবধানে আবারও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এটি ভালো কাজ হলে দিনের বেলায় করা হতো।
ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশু রামিশা হত্যার মতো এ ঘটনাতেও দ্রুত বিচার হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় মন্ত্রী ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার ঘোষণা দেবেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশ ভালো নেই।’ আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়সহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার কারণেই অনেক ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের যেকোনো নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দল হিসেবে জামায়াত দাঁড়াবে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্ম নির্বিশেষে।
ফাহিমার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আইনগতভাবে তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীকেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংসদে আলোচনা করা যেত। প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সংসদে আপত্তি জানাত বা ওয়াকআউট করত। কিন্তু আলোচনা ছাড়া তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং সংসদের অধিকার খর্ব করার সামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাম আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি থাকলে তার ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে। একই সঙ্গে গত তিন মাসে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করছে। তাঁর মতে, বাস্তব অবস্থা জনগণের সামনে তুলে ধরলে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারবে।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান নিহত ফাহিমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাওলানা জুবায়ের আহমদসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।