
দেশে পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। নতুন দর ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে মাশুল ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে ৭ দশমিক ৫১ পয়সা বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে।
খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে এর প্রভাব পড়বে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করেছিল বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন জানায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, নতুন মূল্যহার সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। তবে আপত্তি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন মূল্যহার অনুমোদন করেছে। ফলে চলতি মাস থেকেই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে।