খসড়ার সঙ্গে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার মিল নেই: ইসহাক দার

যুদ্ধপরবর্তী গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যেটিতে বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সমর্থন দেয়। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর তৈরি খসড়ার সঙ্গে প্রকাশিত পরিকল্পনার মিল নেই।
দেশটির গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, শুক্রবার পার্লামেন্টে ভাষণ দেন ইসহাক দার। এ সময় তিনি বলেন, এটি আমাদের তৈরি করা প্রস্তাব নয়। মূল প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমার কাছে রেকর্ড আছে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠক করেন কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের নেতারা। দেশগুলো হলো- জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও মিশর। ওই বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধ বন্ধে তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপর তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে গাজা নিয়ে শান্তি প্রস্তাবের ২০টি দফা তুলে ধরেন ট্রাম্প। পরে এটির প্রতি সমর্থন জানান পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশের সরকার প্রধানরা।
পার্লামেন্টে ইসহাক দার বলেন, মূল বৈঠকের আগে নিউ ইয়র্কে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক হয়। সেখানে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকের আয়োজক ছিল কাতার দূতাবাস। কিন্তু তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কমিটিও এসেছিল। তারাই একটি ২০ দফা প্রস্তাব দেয়।
দার আরও বলেন, মন্ত্রীরা প্রস্তাবটি নিয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন। একেবারে নতুন খসড়া তৈরির পরিবর্তে ওই কাঠামোর মধ্যেই থাকা এবং কিছু দফা সংশোধন বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরের ২৪ ঘণ্টায় আরও বৈঠক করি। হোটেল কক্ষে একে অপরের সঙ্গে হার্ড কপিও বিনিময় করেছিলাম।
ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তানসহ আট দেশ যৌথভাবে একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে। যেটি মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে ‘বিকল্প খসড়া’ হিসেবে পাঠানো হয়। পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল নিউ ইয়র্ক ছাড়ার পর জানানো হয় মার্কিন পক্ষ খসড়াটি পেয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের পর পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হলে তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সৌদি মন্ত্রী জানান, পরিকল্পনায় আট দেশের দেওয়া জরুরি বিষয়গুলো গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে এখনো আলোচনা করা দরকার।
সৌদি মন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ইসহাক দার বলেন, তখন দুটি পথ ছিল- গাজায় ইসরায়েলের হামলা চালিয়ে যেতে দেওয়া এবং ট্রাম্পকে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া ও একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা। ইসরায়েলের হামলা বন্ধের জন্য এটিই ছিল একমাত্র উপায়।