সর্বশেষ
কল রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জেরে সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের আহত ১০সেনা প্রধানের উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটবিরোধী দলের ভাষা সংঘাতের দিকে না যাওয়ার আহ্বান ফখরুলেরবাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকা সফরে আগ্রহ প্রকাশ করলেন ইউএই প্রেসিডেন্টজুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ৫ আগস্ট নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলঅসুস্থ বাবা ও প্রতিবন্ধী মায়ের সংসার চালাতেন আলিফ, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ চাইল এনসিপিহবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামল।যশোরে গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন, চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তরকল রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জেরে সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের আহত ১০সেনা প্রধানের উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটবিরোধী দলের ভাষা সংঘাতের দিকে না যাওয়ার আহ্বান ফখরুলেরবাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকা সফরে আগ্রহ প্রকাশ করলেন ইউএই প্রেসিডেন্টজুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ৫ আগস্ট নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলঅসুস্থ বাবা ও প্রতিবন্ধী মায়ের সংসার চালাতেন আলিফ, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ চাইল এনসিপিহবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামল।যশোরে গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন, চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

গাজায় যুদ্ধবিরতি: প্রথম পর্যায়ের শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর!

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৫
গাজায় যুদ্ধবিরতি: প্রথম পর্যায়ের শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর!

(লাইভ বাংলা সম্পাদকীয় ডেস্ক):দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী গাজা যুদ্ধের অবসানের আশায় এক ঐতিহাসিক মোড় ঘুরেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হামাস উভয় পক্ষই তাঁর ‘শান্তি পরিকল্পনা’র প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি গাজায় যুদ্ধবিরতির পথ খুলে দিয়েছে, যাতে সকল জিম্মি বিনিময় এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মঙ্গলবার রাতে ঘোষণা করেন, “আমি খুব গর্বিতভাবে ঘোষণা করছি যে ইসরায়েল এবং হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে সকল জিম্মিরা খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবে এবং ইসরায়েল সেনাবাহিনী একটি নির্ধারিত রেখায় প্রত্যাহার করবে—এটি একটি শক্তিশালী, স্থায়ী এবং চিরস্থায়ী শান্তির প্রথম ধাপ। সকল পক্ষের প্রতি ন্যায়বিচার করা হবে!” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল, চারপাশের সকল দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক মহান দিন। কাতার, মিশর এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ, যারা এই ঐতিহাসিক ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন। শান্তিপ্রিয়কারীদের আশীর্বাদ!”

এই চুক্তির মূল বিষয়বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হামাসের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ জন জীবিত ও মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দী ও আটককৃত ব্যক্তির মুক্তি। কাতারের একজন কর্মকর্তা এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) পোস্ট করে বলেন, “দুই পক্ষ সোমবার রাতে গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের সকল শর্তাবলী ও প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং সাহায্য প্রবেশের পথ খুলবে। বিস্তারিত পরে ঘোষণা করা হবে।”

চুক্তিটি মিশরের শর্ম-এল-শেখে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের মধ্যপ্রদেশ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাই জ্যারেড কুশনার এবং মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হামাস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গাজা থেকে প্রত্যাহার এবং জিম্মি-বন্দী বিনিময় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে চুক্তির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাঁকে ইসরায়েলের সংসদে ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

যদিও এটি যুদ্ধের অবসানের আশা জাগিয়েছে, তবু অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে হামাসের গাজা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্বের অধীনে হস্তান্তর এবং হামাসের অস্ত্রসংস্থানহীনতা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “সকল পক্ষকে এর শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।”

গাজা যুদ্ধ, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় শুরু হয়ে প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ায় ৬০,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে প্রাণীহানি সাধন করেছে। এই চুক্তি যদি সফল হয়, তাহলে এটি ট্রাম্পের জন্য এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য হবে, যা তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার করে তুলবে। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসাক হার্জোগ বলেছেন, “ট্রাম্পের অসাধারণ নেতৃত্ব নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।”

গাজায় এখন আশার আলো জ্বলে উঠেছে। জিম্মিদের পরিবার এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকরা উল্লাসে মেতে উঠেছে, যদিও পুনর্নির্মাণের পথ দীর্ঘ। বিশ্ব নেতারা এখন চোখ রেখেছেন, এই প্রথম ধাপ কতদূর এগোবে।