গত আট মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের হত্যা: অপরাধের উর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ।

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৫: চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) সারা দেশে খুনের ঘটনায় ২ হাজার ৬১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১১ জনের হত্যার হার নির্দেশ করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ পূর্ববর্তী বছরগুলোতে দমন করা মামলাগুলো এখন দায়ের হচ্ছে। তবে এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, এই খুনের মামলাগুলোর মধ্যে অনেকগুলো পূর্ববর্তী বছরের ঘটনা সংশ্লিষ্ট, যা আগে রাজনৈতিক প্রভাবে দায়ের হয়নি। পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২৯৪টি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় বেশি।
দৈনিক স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ছয় মাসে খুনের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩৩, যা গড়ে ১০.৭৪ জন প্রতিদিন। 0
রাজনৈতিক সহিংসতার ছায়া
একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতাও বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (প্রথম নয় মাস) রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৭৩, যা আগস্ট মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে) এর তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ১০ পর্যন্ত মব ভায়োলেন্সে ১১১ জন নিহত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে যুক্ত।
যদিও সুনির্দিষ্টভাবে ৩১০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য সরাসরি মিলেনি, এইচআরএসএস এর প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১,০৪৭টি ঘটনায় ১৬০ জন নিহত হয়েছেন, যা প্রথম আট মাসের জন্য কাছাকাছি অনুমান নির্দেশ করে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে আগস্ট ২০২৪ থেকে ৭৪ জন নিহত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ।
পটভূমি এবং উদ্বেগ
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করা হলেও, অপরাধের এই উর্ধ্বগতি বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয় আধিপত্যের লড়াই এবং সম্পত্তি দখলের মতো কারণগুলো সহিংসতা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
এইচআরএসএস এবং এএসকে এর মতো সংস্থাগুলো সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে মানবাধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি উঠেছে।