ভারতের ত্রিপুরায় চোর সন্দেহে তিন বাংলাদেশি পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চোর সন্দেহে তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের সীমান্তবর্তী বিদ্যাবিল এলাকা দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন।
নিহত তিনজনই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন—
• আলীনগর গ্রামের মৃত আশ্বব উল্লার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০),
• বাসুল্লা গ্রামের কনা মিয়ার ছেলে পণ্ডিত মিয়া (৪৯) এবং
• কবিলাশপুর গ্রামের কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে সজল মিয়া (২৫)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে তারা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা চোর সন্দেহে তাদের আটক করে পিটিয়ে হত্যা করে।
ঘটনাস্থল ভারতের সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে, যা ৭০-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
হবিগঞ্জ-৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন,
“প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। স্থানীয়রা চোর সন্দেহে তাদের আটক ও মারধর করে, এতে তারা প্রাণ হারান। আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
বিকেলে ত্রিপুরার খোয়াই জেলার সাম্পাহার থানা থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশের চুনারুঘাট সীমান্তে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ত্রিপুরার খোয়াই থানার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর দেব বর্মা, এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।
⸻
শোকাহত পরিবার
তিন বাংলাদেশির নিহত হওয়ার ঘটনায় চুনারুঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা।
সজল মিয়ার স্ত্রী মারুফা বেগম বলেন,
“আমার স্বামী দিনমজুর। বিড়ির পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে আর ফিরে এল না। তিনটি বাচ্চা নিয়ে এখন আমি কীভাবে বাঁচব?”
জুয়েল মিয়ার স্ত্রী মাজেদা আক্তার বলেন,
“আমার স্বামী নিরীহ মানুষ ছিলেন। ভারতের লোকজন তাঁকে মেরে ফেলেছে।”
পণ্ডিত মিয়ার স্ত্রী রুজিনা আক্তার বলেন,
“স্বামী বিড়ির পাতা জোগাড় করতেন, আমি সেটা দিয়ে বিড়ি বানিয়ে সংসার চালাতাম। এখন পরিবার চালাব কীভাবে জানি না।”
বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন, নিহতদের পরিবার।