“গুণ্ডা ভাব দিয়ে আর রাজনীতি হবে না”— বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি নিয়ে মির্জা গালিবের বিশ্লেষণ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | ঢাকাঃ
চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (চাকসু ও রাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক পদে জয় পেয়েছে। এই ফলাফল নিয়ে মত দিয়েছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা গালিব।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন,
“চাকসুতে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টি শিবিরের প্যানেল পেয়েছে, আর রাকসুতে ২৩টির মধ্যে ২০টি। ছাত্রদল ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু—সব মিলিয়ে পেয়েছে শুধু একটি এজিএস।”
মির্জা গালিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রজন্ম এখন পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে গিয়ে মেধা, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক নেতৃত্বকে মূল্য দিচ্ছে।
তার ভাষায়,
“অছাত্র, বয়স্ক ছাত্র, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, চিৎকার-চেঁচামেচি করা পুরনো রাজনৈতিক স্টাইল দিয়ে আর রাজনীতি করা যাবে না। শিবিরকে হারাতে হলে মেধাবী হতে হবে, ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কনস্ট্রাকটিভ রাজনীতি করতে হবে, আর দেখতে শুনতেও ব্যক্তিত্ববান, কিউট-সুইট টাইপের হতে হবে। গুণ্ডা-গুণ্ডা ভাব থাকলে আর হবে না।”
তিনি আরও লিখেছেন,
“এই যে সারা দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ তরুণীদের একচেটিয়া সাপোর্ট পাচ্ছে শিবির—এইটা এক নতুন বাংলাদেশের গল্প বলছে। এমন এক বাংলাদেশই তো আমরা চাইছিলাম আমাদের সারাটা জীবন ধরে।”
দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সম্প্রতি। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়েই ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত ছাত্রদল মাত্র একটি পদে জয় লাভ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা সূচিত করছে—যেখানে সংগঠন নয়, বরং প্রার্থীর যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাই মুখ্য হয়ে উঠছে।
ছাত্রদল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব ও সংগঠন চালানোর বাধার কারণে তারা কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।
অন্যদিকে শিবিরের নেতারা বলছেন, বছরের পর বছর ক্যাম্পাসে তারা নিয়মিত পাঠচক্র, সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ ও মেধাভিত্তিক রাজনীতি চর্চা করে আসছেন—এটাই তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি।
বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির এই পরিবর্তনকে অনেকেই “পুরনো রাজনীতির অবসান ও নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশ” হিসেবে দেখছেন। মির্জা গালিবের মতে, সময় এসেছে “চিৎকার নয়, চিন্তা দিয়ে রাজনীতি করার”—এবং এটাই হতে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।