দু’ দিনে তিনবার ভূমিকম্প: সিলেটসহ কয়েকটি অঞ্চলে গ্যাস কূপ খনন কাজ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত

রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, গত দু’ দিনের মধ্যে কয়েকদফা ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস কূপ খনন কাজ ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) জানিয়েছে, এই দুইদিনে চারটি ভূমিকম্প প্রমাণ করেছে যে, নরসিংদী জেলার উপরে অবস্থিত ভূ-স্তরীয় প্লেটিলেট (প্লাটিলেট) খুবই অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় ভূমিতে যে কোনো সামান্য কম্পনও ওই এলাকার ভূমিকম্প-ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফলে, নির্দেশনায় বলা হয়েছে — যদি সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলায় পেট্রোবাংলার পরিচালনায় থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস কূপ খনন কাজ চলমান থাকে, তাহলে তা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নরসিংদী জেলায় সব প্রকার ড্রিলিং কাজ ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সাভার বাইপাইল এলাকায় একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরপর দু’ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়— প্রথমটি সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে মাত্রা ছিল ৩.৭, এক সেকেন্ড পর দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৪.৩। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার বাড্ডা এলাকা।
এদিকে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.৭। এতে সারা দেশে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। সাধারণত বড় ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট কম্পন বা আফটারশকের সম্ভাবনা থাকে—এমনই নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।