সর্বশেষ
Live Bangla Logo

এশিয়াজুড়ে ভয়াবহ বন্যা–ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
এশিয়াজুড়ে ভয়াবহ বন্যা–ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে

এশিয়ার কয়েকটি দেশে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে সোমবার মৃতের সংখ্যা এক হাজার পেরিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদারে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

গত সপ্তাহজুড়ে শ্রীলঙ্কার পুরো দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা অঞ্চল, দক্ষিণ থাইল্যান্ড ও উত্তর মালয়েশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অব্যাহত প্রবল বর্ষণ হয়। বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও ঝড়ের শক্তি বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যয় আরও গভীর হয়েছে। বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লোকজন ছাদে আশ্রয় নিয়ে নৌকা ও হেলিকপ্টারের সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন।

উত্তর সুমাত্রা সফরে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো বলেন, সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত পার হতে পারে। সরকার এখন দ্রুততম সময়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে, বিশেষত বিচ্ছিন্ন এলাকায়। দেশটিতে অন্তত ৫০২ জনের মৃত্যু এবং ৫০০ জনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জোরালো হলেও প্রেসিডেন্ট এখনো আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাননি। ২০১৮ সালের ভূমিকম্প–সুনামির পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’–জনিত বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৫৫ জন নিহত এবং ৩৬৬ জন নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়ে দেশটি সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছে। রাজধানী কলম্বোয় পানি রাতভর সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছালেও বৃষ্টি থামায় পানি কমতে শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে। কিছু দোকানপাট ও অফিস খুলতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চলে সড়ক পরিষ্কার হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করে এ দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে একজন পাইলট নিহতও হয়েছেন।

দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বন্যায় কমপক্ষে ১৭৬ জন মারা গেছে। ত্রাণ তৎপরতা চললেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় অদক্ষতার অভিযোগে সমালোচনা বাড়ছে। মালয়েশিয়ার পারলিস রাজ্যে প্লাবিত এলাকায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চলমান দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।