আমার ভালো লাগে না: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনই হঠাৎ সরব হয়ে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘ নীরবতার পর তিনি ইঙ্গিত দিলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। এখান থেকে চলে যেতে চাই।” পরবর্তীতে ফোনে কথা বলার সময়ও তিনি একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তার ভাষায়, “নির্বাচিত সরকার এসে যদি বলে যে আপনি থাকবেন না, নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে—এটা বিশ্বের কোথাও অস্বাভাবিক নয়, বাংলাদেশেও নয়।”
রাষ্ট্রপতির ক্ষোভের কারণ
তিনি জানান, প্রায় সাত মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। শুধু তা-ই নয় —
- তার প্রেস বিভাগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে,
- বিদেশি মিশন ও দূতাবাসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে,
যা নিয়ে তিনি গভীর অপমানবোধ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, এই ছবি অপসারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে, যেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠিও লিখেছিলেন, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি।
এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর মাত্র ১৬ মাস পর তিনি পড়েন এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে—
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।
সব পরিবর্তনের পরও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্বে থাকতে হয়। সংসদ বিলুপ্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ—সব আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাই তাকে পালন করতে হয়েছে। অক্টোবর মাসে কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনও শুরু করে, যদিও ‘সাংবিধানিক সংকট’ এড়াতে তাকে অপসারণ করা হয়নি।
তার পদত্যাগের সময়সীমা কী?
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠন হলে, এবং সেই সরকার অনুরোধ করলে, তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন।
যখন প্রশ্ন করা হয় কেন তার ‘ভালো লাগছে না’, তিনি বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করলেও, বিদেশি মিশন থেকে ছবি অপসারণ এবং রাষ্ট্রপতির অফিসের ক্ষমতা খর্ব হওয়াকে তার অসন্তুষ্টির মূল কারণ বলে ইঙ্গিত দেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পরিচয়
সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামে পরিচিত এই রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ
- ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে কারাবরণ
- দীর্ঘ বিচার বিভাগীয় ক্যারিয়ার
- দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব
- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য
এই দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন।
শেষ কথা
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অফিসিয়াল ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতি নিজেকে অবমানিত মনে করছেন। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে নতুন সরকারের আগমনই হয়তো তার বিদায়ের আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।