ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার চিত্রণে দাড়ি-টুপির অবমাননা: ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্ররা সম্প্রতি রাজাকারদের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদে রাজাকারদের ছবি আঁকতে গিয়ে দাড়ি এবং টুপি যুক্ত করে তাদের চিত্রিত করেছেন, যা পায়ের তলে মাড়ানোর মাধ্যমে অবমাননা করা হয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের মধ্যে দাড়ি-টুপি পরার প্রচলন ছিল না, তবুও বারবার এই ধর্মীয় প্রতীকগুলোকে রাজাকারের সাথে যুক্ত করে একটি স্টিরিওটাইপ তৈরি করা হয়েছে। 12 এটি না শুধু ঐতিহাসিক সত্যতাকে বিকৃত করে, বরং ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকেও আঘাত করে বলে মনে করছেন অনেকে।
জগন্নাথ হলের রাস্তায় আঁকা এই ছবিগুলোতে রাজাকারদের চেহারায় দাড়ি এবং টুপি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ছাত্ররা এবং দর্শনার্থীরা তাদের পায়ের তলে মাড়িয়ে প্রতিবাদ প্রকাশ করতে পারেন। 17 এই প্রতিবাদটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত রাজাকারদের বিরুদ্ধে, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন যে এতে ইসলামী পোশাকের প্রতীকগুলোকে অযথা টেনে আনা হয়েছে। একজন সমালোচক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “রাজাকারের প্রতিকৃতি যদি দাঁড়ি টুপি হয়, তার বিপরীতে দাঁড়ি টুপি ছাড়াও আছে রাজাকার, তাদের ছবিও তো আঁকা উচিত ছিলো।” 11
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসতেন, এবং তাদের চেহারায় দাড়ি-টুপির মতো ধর্মীয় চিহ্নগুলোর উপস্থিতি বিরল ছিল। দলিলপত্র এবং ছবিগুলোতে এমন চেহারার রাজাকার খুব কম দেখা যায়। 13 তবুও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজাকারদের চিত্রণে দাড়ি-টুপিকে প্রধান প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনেকের মতে একটি ইচ্ছাকৃত স্টিরিওটাইপিং। এটি ইসলামী সম্প্রদায়ের একটি অংশকে অযথা লক্ষ্যবস্তু করে, এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধর্মীয় বিভাজনের সাথে যুক্ত করে ফেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে উল্লাসের পাশাপাশি নোংরামির অভিযোগ উঠেছে। 12 কেউ কেউ বলছেন, এটি ছাত্রদের মধ্যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার অভাব প্রকাশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করতে গিয়ে আমরা যদি ধর্মীয় প্রতীকগুলোকে অবমাননা করি, তাহলে আমরা নিজেরাই সেই চেতনাকে বিকৃত করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও এই ঘটনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, কিন্তু সমালোচকরা দাবি করছেন যে এমন প্রতিবাদের পদ্ধতি পরিবর্তন করা দরকার। এটি না শুধু ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে অসঙ্গতি তৈরি করে, বরং সমাজে বিভাজন বাড়ায়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা করতে গিয়ে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করলে, তা শেষ পর্যন্ত দেশের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।