সিলেট-১ খন্দকার মুক্তাদির সম্পদের তথ্য হলফনামায় ।

সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও তার স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিনের মালিকানায় রয়েছে মোট ১০০ ভরি স্বর্ণ। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, এই স্বর্ণের পুরোটা বিবাহের সময় আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া।
নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নিজের নামে রয়েছে ৫০ ভরি এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে আরও ৫০ ভরি স্বর্ণ। তিনি হলফনামায় স্বর্ণের উৎস সম্পর্কে উল্লেখ করেন, ‘বিবাহের সময় উপহার হিসেবে প্রাপ্ত হওয়ায় অধিগ্রহণকালে এর মূল্য শূন্য।’ তবে বর্তমান বাজারদরে নিজের ৫০ ভরি স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর স্বর্ণের মূল্যও সমপরিমাণ দেখানো হয়েছে।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাই শেষে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের বার্ষিক আয় প্রায় ৩৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৬৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, তবে তার কোনো ব্যাংক জমা নেই।
অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে কৃষি ও অকৃষি জমি, আর তার স্ত্রীর নামে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট।
অন্যদিকে, হলফনামা অনুযায়ী ব্যাংকের কাছে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের ঋণের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রিধারী এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার বাবা খন্দকার আবদুল মালেক সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।