বাংলা বলায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের তিন শ্রমিককে পেটাল হিন্দু জঙ্গিরা

মহারাষ্ট্রে কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার তিন পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে বাংলায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দা দিলীপ বাগদী, সমীর বাউড়ি ও তাঁদের এক সহকর্মীর দাবি, মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরার পথে এই হামলা ঘটে। টিকিট কাটার সময় তাঁরা হিন্দিতে কথা বললেও, নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলা শুরু করতেই স্থানীয় এক হিন্দু জঙ্গি গোষ্ঠীর কিছু সদস্য তাঁদের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
শ্রমিকদের বক্তব্য, তাঁদের পথ আটকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও জোরপূর্বক ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগানো হয়। এমনকি যানবাহন থেকে নামিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে আধার কার্ড পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্ত সমীর বাউড়ির অভিযোগ, “আধার কার্ড দেখানোর পরেও তারা বিশ্বাস করতে চায়নি যে আমরা ভারতীয়।”
তাঁদের আরও অভিযোগ, ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে—মাথায় গরম চা ঢেলে দেওয়া হয়, মাথা ও পেটে লাথি মারা হয়। একজন অসুস্থ হওয়ার ভান করলেও হামলা থামেনি বলে দাবি।
সাম্প্রতিক সময়ে ওড়িশা ও রাজস্থানের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই মহারাষ্ট্রের ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল।
বাড়ি ফেরার পর রবিবার পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কারণেই দেশজুড়ে বাঙালিদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি বাঙালিদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা দিলীপ চক্রবর্তী এই অভিযোগে রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবেই শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।