সর্বশেষ
৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন আটকঢাকা-সিলেট রুটে আসছে বিরতিহীন ট্রেন ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল থামাতে গিয়েছিল বিএনপি, নেতাকর্মীদের মেরে মোটরসাইকেলে আগুন দিলো ছাত্রলীগ ; আটক ১৯৫ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ‘এখনই আমি মরতে পারি না’ বলার কিছুক্ষণ পরই ইজরায়েলপন্থী মার্কিন সিনেটরের মৃত্যু।সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, ঢাবিতে বিজিবি মোতায়েন৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন আটকঢাকা-সিলেট রুটে আসছে বিরতিহীন ট্রেন ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল থামাতে গিয়েছিল বিএনপি, নেতাকর্মীদের মেরে মোটরসাইকেলে আগুন দিলো ছাত্রলীগ ; আটক ১৯৫ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ‘এখনই আমি মরতে পারি না’ বলার কিছুক্ষণ পরই ইজরায়েলপন্থী মার্কিন সিনেটরের মৃত্যু।সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, ঢাবিতে বিজিবি মোতায়েন
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

আহত জুলাইযোদ্ধাকে গুলি করা পুলিশই ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে: চরম লজ্জাজনক অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আহত জুলাইযোদ্ধাকে গুলি করা পুলিশই ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে: চরম লজ্জাজনক অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

একজন আহত জুলাইযোদ্ধাকে যে পুলিশ সদস্য গুলি করেছিলেন, তাকেই পরবর্তীতে ওই আহত যোদ্ধার ভেরিফিকেশন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে চরম লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান এ অভিযোগ করেন।

তামিম খান বলেন, “একজন আহত জুলাইযোদ্ধা কান্না করে আমাকে বলেছে—ভাই, যে পুলিশ আমাকে গুলি করেছে, সেই পুলিশই এখন আমাকে ভেরিফাই করার জন্য পিবিআইতে ডেকেছে। এটা কি কোনো মানুষের কাজ হতে পারে?”

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু থেকেই জটিলতা ও হয়রানির মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ছাত্র প্রতিনিধি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে প্রায় সাড়ে নয় হাজার আহতের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয় এবং এতে ১ হাজার ৪৮৫ জন আহতকে নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তবে ২ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ তালিকাকরণ ও এমআইএস কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চাপে ভুয়া আহত অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি পুরোপুরি তালিকাকরণ বন্ধ হয়ে যায়।

তামিম খান বলেন, অনেক আহত জুলাইযোদ্ধা ছয় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের কী তালিকার বাইরে রাখা হবে? তালিকাকরণ বিষয়ে গণমাধ্যম বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, ফরম বা নির্দেশনা না থাকায় বিপুলসংখ্যক আহত তালিকার বাইরে পড়ে যান।

চাপের মুখে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সিদ্ধান্ত হয়—কোনো আহত জুলাইযোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকবে না। এরপর দরখাস্ত নেওয়া শুরু হলে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে আহতের সংখ্যা বেড়ে দুই থেকে আড়াই হাজারে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, “২ জুন থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বসে আমরা তালিকা যাচাই করেছি। না খেয়ে কাজ করেছি। অথচ তালিকার দাবিতে আমাদের ৮-১০ বার লংমার্চ করতে হয়েছে। আহত যোদ্ধাদের সম্মান কি এখন আন্দোলন ছাড়া পাওয়া যাবে না?”

ঢাকা জেলার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৪২ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই তালিকায় ঢাকার বাসিন্দা ৩৯২ জন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে তামিম খান বলেন, যাচাই করা তালিকা হঠাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশকে ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি যে পুলিশ গুলি করেছে, সেই পুলিশই আহতদের যাচাই করছে।

ভেরিফিকেশনের নামে আহতদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, সমন্বয়কের প্রত্যয়ন, দুইজন সাক্ষী, আন্দোলনে কেন অংশ নিয়েছিলেন—এ ধরনের প্রশ্ন করা হচ্ছে। “পুলিশের দোষ দিচ্ছি না, তারা কমান্ড ফলো করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভুল।”

সংবাদ সম্মেলনে আহত সাংবাদিকদের বিষয়টিও উঠে আসে। তামিম খান জানান, তিনি ৩২ জন সাংবাদিকের দরখাস্ত পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৪ জন প্রকৃত আহত জুলাইযোদ্ধা। তারাও এখনো তালিকাভুক্ত হননি।

আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে যাচাই-বাছাই কমিটির পাঠানো তালিকা অনুযায়ী এমআইএস ও গেজেট প্রকাশ নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, “এবার আর শুধু পদত্যাগ দাবি নয়—দায়িত্বে অবহেলা করলে উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করানো হবে।”