জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাকে নিয়মিত বৈঠকের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত: রণধীর জয়সওয়াল

গত বছরের শুরুর দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতের একজন কূটনীতিকের বৈঠক হয়েছিল—এ তথ্য স্বীকার করেছে ভারত সরকার। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এক ভারতীয় সাংবাদিক বৈঠকটি নিয়ে প্রশ্ন করলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিত বিভিন্ন সংলাপে অংশ নেন। তিনি বলেন, “আপনি যে দলটির (জামায়াত) কথা বলছেন, তাদের সঙ্গে বৈঠককে সে প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।”
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজেই ওই বৈঠকের কথা জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বাইপাস সার্জারির পর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ভারতের একজন কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের মতো এই সাক্ষাৎটি প্রকাশ্যে আনা হয়নি; বরং ভারতীয় কূটনীতিকের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
রয়টার্সে সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, অসুস্থতার পর দেশি-বিদেশি অনেক কূটনীতিক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এবং ভারতের দুজন কূটনীতিকও তখন তার বাসায় এসেছিলেন। অন্যান্যদের মতো তাদের সঙ্গেও স্বাভাবিক আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও জানান, ওই সাক্ষাৎটি প্রকাশ্যে আনার কথা জানালে ভারতীয় কূটনীতিকরা তখন তা না প্রকাশ করার অনুরোধ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বৈঠকই প্রকাশ্যে আনা হবে এবং সেখানে গোপনীয়তার কিছু নেই।
একই সঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, কিছু দেশীয় গণমাধ্যম ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে, যা বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।