জানাজা পড়ার অনুমতি মিলেনি: যশোর কারাগারে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

যশোর: বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারাফটকে দূর থেকে তাকে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সাদ্দামকে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (স্ত্রী) ও তাদের ৯ মাসের শিশু নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুটিকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বর্ণালী শিশুকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা নাকচ করা হয়।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর কারাগারে যোগাযোগ করা হলেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি হত্যা মামলার আসামি নন; রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি। মানবিক বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।
সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করে বলেন, রাজনৈতিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে স্ত্রীর ও সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, সাধারণত কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে এবং মরদেহ কারাফটকে আনা হলে মানবিক বিবেচনায় স্বল্প সময়ের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পরিবারকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।