টিআইবি: সংস্কার সুপারিশের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ উপদেষ্টা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক ও কৌশলগত সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এসব সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, আমলাতন্ত্রের একটি অংশ সংস্কার চায় না—এ কথা বলা হলেও বাস্তবে উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সংস্কার কমিশনের জমা দেওয়া কিছু সুপারিশ আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হলেও তাতে বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে—সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন, হোয়াইট পেপার কমিটি গঠন এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা তার উদাহরণ। তবে যে সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল এবং কোনো নোট অব ডিসেন্টও ছিল না, সেসব মৌলিক প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ কমিশনের সংস্কারে অ্যাডহক পদক্ষেপ নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে জবাবদিহিমূলক সরকারকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে।
দুদক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান হিসেবে তিনি জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ৪৭টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। আশু করণীয়গুলোর মধ্যে দু-একটি বাস্তবায়িত হলেও তাতে কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। দুদকের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনের প্রস্তাবসহ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো পরবর্তীতে বাতিল করা হয়, যা তিনি ‘অন্তর্ঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দুদকের অভ্যন্তরে দুর্নীতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বরখাস্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করার সুপারিশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি; কেবল দুদক আইন-২০০৪ সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে চারটি উপাদানের কথা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন—রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অভিযোগের মুখে থাকা সবাইকে পরিচয় নির্বিশেষে জবাবদিহির আওতায় আনা, দুদকের পাশাপাশি অন্যান্য জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা এবং জনগণের সক্রিয় ভূমিকা—এই চারটি একসঙ্গে থাকলেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
রাজনীতিতে ধর্মের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার বাড়ছে, যা জাতির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতার চেতনা এবং একাত্তর ও চব্বিশের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।