শাফিন রহমান: বিএনপি নেতাদের ভারতে গোপন বৈঠকের ছবি এআই নয়।

সাংবাদিক শাফিন রহমান লিখেছেন, ‘দ্য ডিসেন্ট’ নামের একটি পেজ থেকে দাবি করা হয়েছে—তার আগের পোস্টে সংযুক্ত চারটি ছবি ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। এ দাবির পক্ষে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন প্রসিডিউর’ অনুসরণের কথা বলা হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ ও অপেশাদার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
প্রথম ধাপে ‘দ্য ডিসেন্ট’ যুক্তি দেয়, স্যুট পরা আমীর খসরুর একটি ছবির প্রায় একই এঙ্গেলের সংস্করণ নয়া দিল্লির ওবেরয় হোটেলের একটি গুগল রিভিউতে ছয় বছর আগে পোস্ট হয়েছিল—সুতরাং ছবিটি ফেক। শাফিন রহমানের মতে, কেবলমাত্র পুরোনো একটি মিল পাওয়া ছবির অস্তিত্ব দিয়ে কোনো ছবি এআই-জেনারেটেড প্রমাণ করা যায় না। বরং Hugging Face-এর মতো ওপেনসোর্স এআই ডিটেক্টর ওই ছবিটিকে ১০০ শতাংশ রিয়েল দেখিয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, কোনো এআই টুল শতভাগ নিশ্চিত ফল দিতে না পারায় কনক্লুসিভভাবে ছবিগুলো এআই-জেনারেটেড বলা যায় না। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড সাংবাদিকতা নিন্দনীয়।
দ্বিতীয় ধাপে ‘দ্য ডিসেন্ট’ দাবি করে, তিনটি ওপেনসোর্স এআই ডিটেক্টর চারটি ছবির মধ্যে একটি ছবিকে এআই-জেনারেটেড বলে শনাক্ত করেছে (৮৫% ও ১০০%)। তবে কোন টুল ব্যবহার করা হয়েছে—সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শাফিন রহমান বলেন, তিনি নিজে একাধিক ওপেনসোর্স ডিটেক্টর ব্যবহার করে পরস্পরবিরোধী ফলাফল পেয়েছেন—একই টুল কোথাও একটি ছবিকে ১০০% ফেক বলছে, আবার অন্যটিকে ১০০% রিয়েল।
তার মতে, ওপেনসোর্স এআই ডিটেক্টরের বিশ্বাসযোগ্যতা সীমিত হওয়ায় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তাই তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য পেইড টুল ব্যবহার করা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী Hive Moderation-এর পেইড ভার্সনে চারটি ছবি যাচাই করলে এআই-জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে যথাক্রমে ৮৪.৪%, ০.৮%, ২৬.৯% ও ০.৫%। অর্থাৎ একটি ছবিতে ডিপফেকের সম্ভাবনা থাকলেও বাকি দুটি প্রায় নিশ্চিতভাবে বাস্তব, আর আরেকটির ক্ষেত্রেও এআই না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
শাফিন রহমান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় কোনো এআই ডিটেক্টরই শতভাগ নিশ্চিত ফল দিতে পারে না। সে কারণে সস্তা ওপেনসোর্স টুলের বদলে ট্রেনড ও পেইড টুলের ফলাফলকে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য ধরা উচিত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘দ্য ডিসেন্ট’ বিশ্বাসযোগ্য টুলে যাচাই না করেই ছবিগুলোকে ফেক বলে উপস্থাপন করেছে। ছয় বছর আগে মিল পাওয়া একটি ছবির ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত টানা সাংবাদিকতার ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিপন্থী।
ছবিতে শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, বসার ভঙ্গি বা ছায়া নিয়ে তোলা প্রশ্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয় বাস্তব ছবিতেও স্বাভাবিক হতে পারে—বিশেষ করে ইনডোর ডিফিউজ লাইটিংয়ে। এআই-জেনারেটেড হলে সাধারণত শ্যাডো, রিফ্লেকশন, জ্যামিতি বা অ্যানাটমিতে স্পষ্ট ত্রুটি থাকে, যা এসব ছবিতে দেখা যায় না।
সবশেষে তিনি বলেন, কোনো এআই টুল শতভাগ নিশ্চিত ফল দিতে না পারায় কনক্লুসিভভাবে ছবিগুলো এআই-জেনারেটেড বলা যায় না। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড সাংবাদিকতা নিন্দনীয়।