নবম পে-স্কেলের দাবিতে যমুনা ঘেরাও মিছিলে পুলিশের জলকামান–টিয়ারগ্যাস, আহত কয়েকজন

সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে প্রথমে শাহবাগে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন সরকারি কর্মচারীরা। বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা দিলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। এ সময় পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও পরে আবার একত্রিত হন।
এরপর যমুনার দিকে এগোলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুনরায় বাধা দেয় পুলিশ। সেখানে কয়েক দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। তবুও আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। সর্বশেষ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর উপস্থিতিতে আবারও পুলিশের অ্যাকশন শুরু হয়।
দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তারা নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তাজনিত কারণে এই এলাকায় সভা-সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। সে কারণেই আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ পুলিশের অ্যাকশনের পর আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বিজিবি মোতায়েন
এদিকে রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তা জোরদারে কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে দাবি আদায়ে সরকারি কর্মচারীরা টানা তিন দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার শহীদ মিনার থেকে বড় জমায়েত ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সারাদেশে সব সরকারি, আধা সরকারি ও পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তরে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।