আজ থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ, কাল থেকে অন্যন্য যানবাহন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে ও পরের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত অন্যান্য পরিবহন চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
তবে এই বিধিনিষেধ সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত পণ্য পরিবহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
বিদেশগামী যাত্রী কিংবা বিদেশফেরত আত্মীয়স্বজনদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিমানবন্দরগামী বা বিমানবন্দর থেকে আগত যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে টিকিট বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
একই সঙ্গে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনকারী যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে একটি করে ছোট গাড়ি—জিপ, কার বা মাইক্রোবাস—ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং মোটরসাইকেল ইসি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোটরসাইকেল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হয়েছে।
জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তঃজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় তারা চাইলে অতিরিক্ত কিছু যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতাও রাখবেন বলে ইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।