সিলেটে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশে বক্তব্য দেয়ায় ইমাম চাকরিচ্যুত।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ায় হাফিজ মাসুম আহমদ নামে এক ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এশার নামাজের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
হাফিজ মাসুম আহমদের ভাষ্য, টুকের বাজারে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদায় করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তৈমুর নগর ভাঙ্গারপাড় ক্রাশারমিল জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী ফয়জুর রহমান বলেন, মসজিদ কমিটির সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনো নোটিশ ছাড়াই কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি জানান, এটি পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত; তিনি এককভাবে কিছু করেননি। রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার জেরে ইমামকে সরানো হয়েছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
২০০৬ সাল থেকে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন হাফিজ মাসুম আহমদ। ইমামতির পাশাপাশি প্রতি বছর রমজানে তারাবির নামাজ পড়াতেন তিনি। চলতি বছরও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে রমজানের চার দিন আগে তাকে দায়িত্ব ছাড়তে বলা হয় বলে জানান তিনি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি শেষ জনসভায় বক্তব্য দেন হাফিজ মাসুম আহমদ। তিনি খেলাফত মজলিসের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবেও পরিচিত। ওই জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকেই চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাফিজ মাসুম আহমদ বলেন, প্রায় বিশ বছর ধরে তিনি মসজিদে ইমামতি করছেন এবং আগে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। শনিবার এশার নামাজের পর মুতাওয়াল্লী তাকে ডেকে পরদিন থেকে মসজিদে না আসতে বলেন বলে দাবি তার।