রাজধানীর হাজারীবাগে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় পুলিশের মন্তব্য।

হাজারীবাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর সন্দেহ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে সিয়াম তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে হাজারীবাগের একটি গলিতে সিসিটিভি ফুটেজে বিন্তি ও সিয়ামকে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। প্রথমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা গেলেও একপর্যায়ে সিয়াম অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তাকে জেরা শুরু করে এবং কিছু ছবি দেখায়। তর্কের একপর্যায়ে সিয়াম সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ডিসি জানান, ঘটনার সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে কলাবাগান এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি ও একটি গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম স্বীকার করেছে যে তাদের মধ্যে চার বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি মেয়েটি তাকে এড়িয়ে চলছিল এবং অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে বলে সে সন্দেহ করছিল। এ ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে বলে দাবি পুলিশের।
অন্যদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বিন্তিকে উত্ত্যক্ত করছিল। প্রেমের সম্পর্ক নয়, বরং অস্বীকৃতি ও হয়রানির জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা গেছে, যা থেকে পূর্বপরিচয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ঘাতক সিয়াম কোনো মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাজারীবাগ থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর সিয়ামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলেও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।