নিউজ
পড়া হচ্ছে...
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই।

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি জোবাইদুল আমিনকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে আলাস্কার ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশু যৌন শোষণের একটি বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত ২৮ বছর বয়সী এই বাংলাদেশিকে ৪ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আলাস্কার একটি ফেডারেল আদালতে তার প্রথম হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি আমিনের বিরুদ্ধে ১৩ ধারার অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট—ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যৌন স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন। তদন্তে বলা হয়েছে, এই অপরাধ শুধু আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না; যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য ও বিদেশেও তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু শোষণমূলক চক্র পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়াতেও শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সমন্বয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
মার্কিন অ্যাটর্নি এস. লেইন টাকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের যৌনভাবে শোষণ করা একটি ভয়াবহ অপরাধ। এতে ভুক্তভোগী শিশুদের শৈশব নষ্ট হয় এবং তাদের পরিবারও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এমন অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব—এই ঘটনায় তা প্রমাণ হয়েছে।
এফবিআইয়ের অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ অ্যান্টনি জাং জানান, এই চক্রে শত শত শিশুকে টার্গেট করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে ছবি আদায় করতে চাপ দেওয়া হতো এবং কেউ অস্বীকার করলে ছবি ফাঁস করার হুমকি দেওয়া হতো। তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় তাদের কার্যক্রম দেশের সীমানার বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোবাইদুল আমিনের ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি এফবিআইয়ের শিশু শোষণ ও মানব পাচারবিরোধী টাস্ক ফোর্সের একটি বড় তদন্তের অংশ। এতে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।