গাইবান্ধায় থানায় ডুকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামাত নেতা গ্রেফতার।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে পলাশবাড়ী উপজেলার গৃধারীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান সারোয়ারে আলম।
গ্রেপ্তারকৃত মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি এবং গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও ২০১৩-১৪ সালে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহরের কালিবাড়ী হাটে সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে যুব জামায়াত নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান।
এ সময় তিনি বিবাদমান দোকানে তাৎক্ষণিক তালা দেওয়ার জন্য ওসির ওপর চাপ দেন। তবে ওসি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওসি সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে পলাশ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওসির ওপর হামলা চালান।
এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। হামলায় ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫)।
অন্য আসামিরা হলেন—মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), শাওন (৩৫), গোলজার রহমান (৩২), সবুজ মিয়া (৩২) ও আব্দুল মালেক (৩৭)।
ঘটনার দিনই তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি একটি স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে মামলায় এ পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি খান সারোয়ারে আলম জানান, থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে ভোররাতে মিজানুর রহমান মিজানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।