হামে শিশুদের মৃত্যু, দায় ইন্টেরিম সরকারের?

ইন্টারিম সরকারের সময়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ধস নেমেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১২ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার হার নেমে আসে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশে, যা আগের বছরগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ কভারেজ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের এই পতনের ফলে হামসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে হামের (এমআর) টিকার কভারেজ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ডাটাবেজ অনুযায়ী, ইন্টারিম সরকারের আগের বছরগুলোতে টিকাদানের হার ধারাবাহিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে ছিল। ফলে “বিগত ৮ বছর ধরে টিকা দেওয়া হয়নি” বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সংকেত। একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হিসেবে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উচ্চ মাত্রার টিকাদান কভারেজ অপরিহার্য।
এ প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে এই বড় ধরনের ঘাটতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, ইন্টারিম সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তবে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের চিহ্নিত করা এবং জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পেইন জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।