জাতিসংঘ ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে: কূটনৈতিক মোহামাদ সাফার পদত্যাগ

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘে নিযুক্ত এক কূটনৈতিক মোহামাদ সাফা সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে পদত্যাগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ ইরানে ‘সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ১২ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে তিনি এই তথ্য ফাঁস করেছেন বলে জানিয়েছেন।
প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন (পিভিএ)-এর জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি লিখেছেন, “আমি মনে করি না মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পদত্যাগের কারণ ও অভিযোগঃ
সাফা বলেন, “আমি এই তথ্য ফাঁস করতে আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছি। নিউক্লিয়ার উইন্টার ঘটার আগেই তা ঠেকাতে আমি আমার দায়িত্ব স্থগিত করেছি, যাতে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ বা সাক্ষী না হতে হয়।”
- তিনি আরও অভিযোগ কজাতিসংঘের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা একটি ‘শক্তিশালী লবি’-এর স্বার্থ রক্ষা করছেন, জাতিসংঘের নয়।
- ইরানের পারমাণবিক হুমকির ‘ভুয়া প্রচারণা’ চালিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
- গাজায় যা ঘটছে তাকে ‘গণহত্যা’, লেবাননে ‘যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলকরণ’ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলতে অস্বীকার করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তিনি ও তার পরিবার মৃত্যুর হুমকি পেযসাফা তেহরানকে উল্লেখ করে বলেন, এটি প্রায় এক কোটি মানুষের শহর। নিউক্লিয়ার হামলা হলে ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’-এর মতো বিপর্যয় নেমে আসবে। তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পিভিএ-এর মাধ্যমে ত্রাণ সাহায্যের জন্য অনুদানের আবেদন করেন।
কে এই মোহামাদ সাফা?
- ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ-এর নির্বাহী পরিচালক।
- ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘের ইকোসোক-এ বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি।
প্রায় ১২ বছর ধরে বিভিন্ন মহাসচিব ও মানবাধিকার পরিষদের সভাপতির অধীনে পিভিএ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেবর্তমান প্রেক্ষাপট
এই পদত্যাগ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নিউক্লিয়ার সাইটসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের রাজনীতিকরা ইতোমধ্যে নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে আসার দাবি তুলেছেন।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
(সূত্র: ইকোনমিক টাইমস, টাইমস নাউ, ৩০ মার্চ ২০২৬)