দাম বাড়ছে না জ্বালানি তেলের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে আপাতত কোনো মূল্যসমন্বয় করছে না সরকার। ফলে এপ্রিল মাসজুড়েই ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন আগের নির্ধারিত দরে বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, বিদ্যমান মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে জ্বালানি তেলের দর বহাল রাখা হয়েছে। মার্চ মাসের মতোই ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সরকার গত বছরের মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর আওতায় প্রতি মাসে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর মূল্যও আন্তর্জাতিক প্রবণতা বিবেচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মাসভিত্তিক সমন্বয় করে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশের চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি দ্বারা। ডিজেল মূলত কৃষি সেচ, পরিবহন খাত ও জেনারেটরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, পেট্রল ও অকটেন বিক্রিতে বিপিসি সাধারণত মুনাফা অর্জন করে। পূর্বে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম বিপিসি নিয়মিত সমন্বয় করলেও বর্তমানে এ দায়িত্ব বিইআরসি পালন করছে। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব জ্বালানি ও খনিিন, পেট্রল ও অকটেন বিক্রি হবে।