সর্বশেষ
সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপির মনোনয়ন: “ইউ হ‍্যাভ টু বুঝতে হবে, সবার আগে ইন্ডিয়া”।বান্দরবান আওয়ামী লীগের পিপি মাধবী মারমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন।আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে হচ্ছেন বিএনপির এমপিজুলাইয়ের শিশু শহিদ জাবির ইব্রাহীমের মাকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দিলো জামায়াত।শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মহাপরিচালক পদে নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পরদিনই ওএসডি।বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অজুহাতে মসজিদে তালা ঝুলিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসন।সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করা হবে: বানিজ্য মন্ত্রীবিএনপির সংরক্ষিত এমপি হলেন আওয়ামী লীগের সুবর্ণা ঠাকুর।সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপির মনোনয়ন: “ইউ হ‍্যাভ টু বুঝতে হবে, সবার আগে ইন্ডিয়া”।বান্দরবান আওয়ামী লীগের পিপি মাধবী মারমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন।আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে হচ্ছেন বিএনপির এমপিজুলাইয়ের শিশু শহিদ জাবির ইব্রাহীমের মাকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দিলো জামায়াত।শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মহাপরিচালক পদে নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পরদিনই ওএসডি।বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অজুহাতে মসজিদে তালা ঝুলিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসন।সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করা হবে: বানিজ্য মন্ত্রীবিএনপির সংরক্ষিত এমপি হলেন আওয়ামী লীগের সুবর্ণা ঠাকুর।
Live Bangla Logo

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ছক কষা হয় আগের দিন সন্ধ্যার বৈঠকে

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল, ২০২৬
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ  ছক কষা হয় আগের দিন সন্ধ্যার বৈঠকে

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় একটি বিশেষ বাহিনীর সদর দপ্তরে উচ্ছেদের চূড়ান্ত পরিকল্পনা হয়। পরিকল্পগুনার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। বৈঠকেই নির্ধারণ করা হয়, বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদে কে কোন ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) একটি অংশ। তবে মাঠ পর্যায়ে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ও র‌্যাবকে। 


পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণের দায়িত্বও দেওয়া হয় এক সেনা কর্মকর্তাকে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সরাসরি মনিটরিং করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় একটি হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হন ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে রিমান্ডে রয়েছেন। 


খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোচিত ও কলংকিত অধ্যায়। উচ্ছেদের আগে ঢাকা সেনানিবাসের ৬ নম্বর শহীদ মঈনুল রোডের বাড়িটিতে প্রায় ৩৮ বছর ধরে বসবাস করছিলেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সরকার বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দিয়েছিল। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই সময় প্রতিবাদে হরতালও পালিত হয়। 


খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় ডিজিএফআই’র কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন এক-এগারো সরকারের কুশীলব শেখ মামুন খালেদ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক পদে বসায়। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পুরো প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন সাবেক প্রভাবশালী এই সেনা কর্মকর্তা। 


রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদে কার কী ভূমিকা ছিল। জবাবে শেখ মামুন খালেদ বলেন, উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবরসহ তৎকালীন সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তা বৈঠক করেন। সেখানেই সব পরিকল্পনা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্ত্রীসহ ওই কর্মকর্তা দেশ ত্যাগ করতে চাইলে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। উচ্ছেদ পরিকল্পগুনা বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখে তৎকালীন ডিজিএফআই’র একটি অংশ। আগের দিন সন্ধ্যার ওই বৈঠকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় সেভাবেই সব কিছু বাস্তবায়ন হয় বলে জানান মামুন খালেদ। 

খালেদা জিয়ার বাড়ি থেকে উচ্ছেদে কোন কর্মকর্তা কী ভূমিকা রাখেন গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে তা বিস্তারিত তুলে ধরেন শেখ মামুন খালেদ। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। পুরো অভিযানের ভিডিও ধারণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘মু’ আদ্যাক্ষরের মেজর পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে। এছাড়া আইএসপিআর-এর পরিচালক পর্যায়ের একজনসহ ডিজিএফআই’র বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন-এমন দাবি করেন শেখ মামুন খালেদ। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে ফের ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে মামুন খালেদের।

এদিকে এক-এগারো সরকারের সময় বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী আরেক সেনা কর্মকর্তা ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একই হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক-এগারো সরকারের সময় বিভিন্ন শিল্পগু গোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতন করার অভিযোগ আছে। 

রিমান্ডে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আফজাল নাছের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এক-এগারো সরকারের সময় তার অপকর্মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশ না করে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, আফজাল নাছের দাবি করেছেন তিনি ভিক্টিমাইজ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরিচ্যুত করেছে। কিন্তু কেন চাকরি হারালেন তা তিনি আজও জানেন না। তিনি গোয়েন্দাদের বলেছেন, আর্থিক সংকটের জন্য চাকরি করেন, অপরাধী হলে তিনি দেশে থাকতেন না।

আফজাল নাছের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, এক-এগারোর সময়ে ডিজিএফআই’র পরিচালকের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন ব্রি. জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশ পালন করেন তিনি।