গরম শুরু হওয়ার আগেই লোডশেডিং শুরু!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও জ্বালানির ঘাটতির কারণে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না, ফলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো যায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে, এপ্রিল-মে মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলেও উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এদিন দিনে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট এবং রাতে একপর্যায়ে ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। মার্চের শুরুতে যেখানে লোডশেডিং ছিল প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট, ঈদের ছুটিতে তা কিছুটা কমলেও বর্তমানে আবার বাড়তির দিকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং তাপমাত্রা সহনীয় থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে এবং তাপপ্রবাহ বাড়লে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে, এপ্রিলজুড়ে দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়ে সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।