সিলেটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’।

সিলেটে দিনব্যাপী ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’ শুরু
বিশ্ব দরবারে সিলেটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর—আলী আমজাদের ঘড়ি, কীনব্রীজ চাঁদনীঘাট ও সারদা হল প্রাঙ্গনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা ওঠে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
আয়োজকরা জানান, সিলেট অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও গ্রামীণ জীবনধারার বিভিন্ন দিক এই উৎসবের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবের আয়োজন করেছে হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, সিলেট।
সিলেটের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস বহুমাত্রিক ও সমৃদ্ধ।
প্রাচীনকাল থেকে এই অঞ্চল ছিল নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। বিশেষ করে ১৪শ শতকে হযরত শাহজালাল-এর আগমনের পর সিলেটে ইসলামী সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে, যা আজও স্থানীয় জীবনধারায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সিলেটের সংস্কৃতিতে সুফিবাদ, লোকজ আধ্যাত্মিকতা এবং গ্রামীণ জীবনযাপন একসঙ্গে মিশে আছে হাছন রাজা ও রাধারমণ দত্ত-এর মতো সাধক-কবিদের গান সিলেটের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি। ভাটিয়ালি, মরমি ও পালাগান এখানকার জনপ্রিয় সংগীতধারা।
ভাষাগত দিক থেকেও সিলেটের নিজস্বতা রয়েছে—সিলেটি উপভাষা উচ্চারণ ও শব্দভাণ্ডারে স্বতন্ত্র, যা প্রবাসী সিলেটিদের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে।
এছাড়া চা-বাগান, পাহাড়ি প্রকৃতি, গ্রামীণ মেলা, নৃত্য, লোককথা ও উৎসব সিলেটের সংস্কৃতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। সব মিলিয়ে সিলেটের ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে ধর্মীয় মূল্যবোধ, লোকজ সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সম্মিলনে।