রাজধানীতে খ্যাতিমান চিকিৎসকের হাসপাতালে চাঁদা দাবি যুবদল নেতার।

বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম এবার চাঁদাবাজ চক্রের চাপের মুখে পড়েছেন। রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে ভয়ভীতি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
শল্যচিকিৎসক ও ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক কামরুল ইসলাম ঢাকার শ্যামলীতে ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ হাসপাতাল গড়ে তোলেন। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈন-এর নেতৃত্বে একটি চক্র প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে আসছে। গত বছরের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়ে জুলাই-আগস্টের পর তা আরও বাড়ে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে, এক ব্যক্তি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ ও হুমকি দিচ্ছেন। তাকে মঈন উদ্দিন মঈন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার সহযোগী হিসেবে মাঈনুদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তি চক্রটিতে যুক্ত, যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
অধ্যাপক কামরুল ইসলামের দাবি, বিষয়টি বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছেও জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। টেন্ডার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি চাঁদা দাবি ও চাপ সৃষ্টি শুরু করে।
এদিকে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। পুলিশের কাছে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ না এলেও হাসপাতালের এক স্টাফকে কেন্দ্র করে বিরোধ থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।