বিশ হাজার কিমি নদী-খাল খন, বাস্তবতা ও কিছু প্রশ্ন

বাংলাদেশকে আমরা নদীমাতৃক দেশ বলি।কিন্তু বাস্তবতা, এই নদীমাতৃক দেশের নদী ও খালই আজ সবচেয়ে বেশি সংকুচিত।স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক থেকে ৫২০টিও বেশি নদী কার্যকারিতা হারিয়ে গেছে।একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ খাল ও ছোট নদী ভারাট, পালিতে বন্ধ হয়ে গেছে।হবিয়ের করাঙ্গী নদী গঞ্জ তার একটি জীবন্ত উদাহরণ।একসময়ের খসরোতা এই নদী এখন পানি শুকিয়ে ‘মরা খালে’ পরিণত হয়েছে, যার চাষ হচ্ছে এবং দুই পাড় হয়েছে।
এক নদী-খালের যে প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তার বড় অংশই এখন অকার্যকর।সমস্যা শুধু পরিবেশে সীমাবদ্ধতা নেই, এটি এখন অর্থনীতির প্রশ্নও।রূপক কৃষি অংশের প্রায় ৬০ শতাংশ সেচের উপর রাজনীতিশীল।দেশ মোট মৎস্যের প্রায় ২৬ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ নদী, খাল ও জলাশয় থেকে।আবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মৎস খাত একা দেশের জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ শতাংশ পাঁচ শতাংশ এবং প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবিকা যুক্ত।
ভালো খাল ও নেটওয়ার্ক এক সময় ছিল আমাদের মহিলা নৌ–পরিবহন ব্যবস্থা।দেশের প্রায় ২৪ হাজার ভোটার নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে মাত্র প্রায় ৬ হাজার।সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার বড় অংশই হারিয়ে গেছে।
এই বাস্তব সংবাদের রিপোর্ট ২০ হাজার উত্তর নদী ও খাল পুনঃখননের একটি উচ্চভিষী অনুষ্ঠান নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।২০২৬ তারিখে মাস-মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় পাইল প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে এবং ১৮০টি এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবের ১ হাজার দৃশ্যমান অগ্রগতির পরিকল্পনা।এর সাথে সমন্বিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও।তবে এই বড় অংশর অংশ নিয়ে কিছু প্রশ্ন করা যায়।শুরু করা, কিছুক্ষণ, অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবে—এই চারটি স্তম্ভ কতটা মজবুত হবে, তার ওপরে নিয়ন্ত্রণ করছে।যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু পরিবেশ ব্যবস্থা নয়, এটি হতে পারে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি বড় উদ্যোগ।
এখানে প্রাসঙ্গিক যে সব আলোচনাই এখন খাকেন্দ্রিক দেখতে ইশতেহারে খাল এবং নদী দুইটার কথা বলা আছে।গ্রামীণ জলাবদ্ধ নদী থেকে জল প্রবাহিত হয়ে খাল দিয়ে প্রবেশ করে।আবার বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথও ছিল খাল।করাঙ্গী নাম যেমন দেশের অগণিত খাল এখন ভরাট হয়ে গেছে।এই খাল-নদীগুলো ভরাট হয়ে উঠতে পারে বড় সমস্যা হচ্ছে:
• সেচ রিপোর্ট: রাজশাহী, নাটোর রাজবাড়ি, নড়াইল সহ দেশ বহু অঞ্চলে এখন ভূস্থ জলের ওপর নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি দেখা গেছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় ভূস্থ পানির স্তর অনেক ১-৩ মিটার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।উল্লেখ্য, বর্তমানে ৭৫ শতাংশ ফলাফল করে শ্যালো টিউবওয়ের উপর, যাচ ও বিদ্যুৎ খরচের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
• জলাবদ্ধতা: শহর ও গ্রাম দুই এলাকায় খাল ভারাট স্টেট কারণে বর্ষার পানি দ্রুত নামতে পারে না।বিশেষ করে ঢাকা ও সিটির মতো মেগাসিটিগুলির ভিডিও চিত্রে যে সংযোগটি স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তার প্রধান কারণ খালের বিচিন্নেক্ট।
• মৎস্য ক্ষমতার ক্ষতি: নদী-খাল-বিলের সংযোগ সংযোগ এগিয়ে যাওয়ার প্রজনন চক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।সিলেটের হাকালুকি হাওর—এশিয়ার বৃহৎ মিঠা নির জলাভূমি—এই সংযোগ বিচিন্নতার কারণে আজ আলোচনায়।হালদা নদী নারী প্রাকৃতিক কার্প মাছের প্রজনন অঞ্চল।এই নদীও কিন্তু বিপদের কারণ।দেশ প্রজাতির অনেক মাছ এখন বিলুপ্তির পথ।
নদী নদী ও খাল বাস্তবে একটি একীভূত জলপ্রবাহ ব্যবস্থা।নদী খননও যদি খালগুলো বন্ধ থাকে, তাহলে পানি স্বাভাবিক প্রবাহ তৈরি হয় না।এই কারণে নদী খাল পুনরুদ্ধারকে মান দিতে হবে।২০ হাজার প্রশ্নঃ খাল ও নদী পুনখননের একটি বাস্তবতা হলে-
• প্রায় ২০ মাস সেক্টের বেশি কৃষিজমিতে সুবিধা বাড়তে পারে।পঞ্চগড়ের বোদায় রামজাজ নদী পুঃখনন করে পানি ধরে রাখতে প্রায় ৫০ হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের সমর্থনের বলে সমপদ প্রতিমন্ত্রী।
• প্রায় ৩ কোটি বেশি মানুষ বা পরক্ষভাবে উপকৃত হতে পারে।
• উপকূলীয় অঞ্চলে খালগুলি পুনরুজ্জীবিতকে মিনির প্রবাহ বাড়বে, যা কৃষিজমিতে সীমাবদ্ধতা নিরোধ করবে।
• গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে।
• বরিশালের সাতলা-বাগদা খাল প্রকল্পগুলি সফল ছোটো অনুরোধের প্রস্তাবগুলির মতো যেটি পুনঃপ্রদানের পর স্থানীয় মৎস্য ব্যাপকভাবে বা গড়ে উঠেছে।
খাল-নদী পুনরুদ্ধার শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি জলবায়ু অভিযোজনও কৌশলগত হাত।আইপিসি– এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে।যার পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর খাল-দীপ্ত নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নেটওয়ার্ক জল সরবরাহ নিশ্চিতে অনিশ্চিত ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সহ নেল্যান্ড সহায়তায় বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘ সময়সীমার পানিনিরাপত্তা, বন্যা ব্যবস্থা এবং জলবায়ু–সহনশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে।খাল-নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচিকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হতে একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যর মধ্যে হতে পারে।এ ছাড়া জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা নদী উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমন্বিত নদী উন্নয়ন গড়ে তুলেছে।এই পরিকল্পনার সাথে যুক্ত প্রকল্পগুলি আরও কার্যকর হতে পারে।
নদী ও খালখনের সময় একটি বড় প্রশ্ন আসে—যখন পলি পাওয়া যাবে?অনেক সময় মাটির খালে পড়ে রাখা হয়, যা দেখতে পায় আবার খালেই পড়ে।কিন্তু অনেক দেশ পলিকে সুবিধা ব্যবহার করছে।সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ এবং এলাকা আমিরাত ভূমি পুনরুধারে পলি ব্যবহার করে।রাজনৈতিকও পলি ব্যবহার করা যেতে পারে:
• কৃষি জমির উর্বরতা বাড়াতে: নদী ও খালের উপরিভাগের পলি (জৈব সার হিসাবে অত্যন্ত কার্যকর)।
• অবকামোঠা নির্মাণে: ইটের জন্য ‘কম্পিউটার ব্লক’ হিসাবে এই মাটি ব্যবহার করা যায়, যা গ্রীক কনস্ট্রাকশনকে বিকল্প করবে।
• বাঁধ ও বিনিয়োগ নির্মাণ: ড্রেজড ম্যাটের মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সম্ভব।