ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ১২৪ মাইল দূরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি?

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত শনিবার ইরান উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল। উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই এ কথা জানিয়েছে।
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শুরু পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজের সবচেয়ে কাছের অবস্থান এটি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
উপগ্রহের ছবিতে দেখা গেছে, গত শনিবার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ওমান উপসাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থান করছে, যা ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দক্ষিণে।
উপগ্রহের ছবি দৃশ্যমান আরও দুটি কাছাকাছি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যা আকার ও গঠনে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গে মিলে যায় বলে জানিয়েছে বিবিসি। এগুলো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধের আওতাভুক্ত জলসীমায় কোনো জাহাজ গেলে তা আটক, দিক পরিবর্তন বা জব্দ করা হতে পারে।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) মার্কিন বাহিনীর অবরোধ শুরু হয়।
ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে আরব সাগরে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নাবিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় এই হুমকি দিয়েছে।
সেন্টকমের বার্তায় বলা হয়েছে, ‘অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরোধের আওতায় থাকা এলাকায় প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তা পথিমধ্যে আটক, পথ পরিবর্তন কিংবা জব্দ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী, সেটি এখানে বিবেচনা করা হবে না।’
এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান বাদে অন্য কোনো দেশে যাতায়াতকারী নিরপেক্ষ জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে ইরানের সব বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার সময় ঘনিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) মার্কিন বাহিনীর অবরোধ শুরু হওয়ার কথা। তার আগে এই হুমকি দিল মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে ইরানের সব বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ করতে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ এক ‘কঠিন অভিযান’ হবে বলে মনে করেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামি।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) মার্কিন বাহিনীর অবরোধ শুরু হওয়ার কথা। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামী আল–জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর থেকে এবং ইরানের বন্দরের পথে যাওয়া জাহাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রশ্ন যে মার্কিন বাহিনী কি এই বিশাল জলপথে ট্যাঙ্কার এবং সুপারট্যাঙ্কারগুলিকে থামাতে সক্ষম হবে?’ তাঁর মতে, এটা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘কঠিন অভিযান’ হবে।
মুহাম্মদ ইসলামি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বর্তমানে প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তারা চাইবে না যে তাদের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান বন্ধ হয়ে যাক।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক বলেন, আমেরিকানদের প্রতি একটি খুব শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে চায় ইরান। যদিও অধিকাংশ দেশ চলমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের কথা ভাবছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে উভয় পক্ষের (ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র) জন্যই অনেক বড় এক পদক্ষেপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার ঘোষণার সমালোচনা করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে তা বিশ্ববাজারের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে উল্লেখ করেছে মস্কো।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের আদেশের অনেক দিক এখনও অস্পষ্ট রয়েছে।