ইউনাইটেডের হারের রাতে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চুল টেনে লাল কার্ড দেখলেন মার্তিনেজ

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গতকাল অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লিডস ইউনাইটেডের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই লিডস আক্রমণে সক্রিয় ছিল এবং ৫ ও ২৯ মিনিটে নোয়াহ ওকাফোরের জোড়া গোলে এগিয়ে যায়। তবে ৬৯ মিনিটে কাসেমিরো একটি গোল শোধ করেন, যা দলকে ম্যাচে ফেরার আশা দিয়েছিল।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে দ্বিতীয়ার্ধে, যখন ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ৫৬ মিনিটে প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকার ডমিনিক কালভার্ট-লেউইনের চুল টানার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শ ও পিচসাইড মনিটর যাচাইয়ের পর অন ফিল্ড রেফারি পল টিয়ার্নি মার্তিনেজকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেন।
রেফারির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিক এই সিদ্ধান্তকে তার দায়িত্বকালীন সময়ে দেখা অন্যতম সবচেয়ে দুর্বল রেফারিং সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট লড়াই করেছে এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, কিন্তু রেফারির এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।’
ক্যারিক আরও জানান, মার্তিনেজের বিরুদ্ধে নেওয়া লাল কার্ডটি অনুচিত এবং অতিরিক্ত কঠোর ছিল। তিনি বলেন, ‘কালভার্ট-লেউইন প্রথমে মার্তিনেজের মুখের দিকে হাত ছুড়ে দেয়, যা মার্তিনেজের ভারসাম্য নষ্ট করে। এরপর ধস্তাধস্তির সময় হালকা ভাবে তার চুলে হাত লেগেছে, যা চুলের ব্যান্ড খুলে দিয়েছে। কিন্তু এটি কোনো আক্রমণাত্মক বা জোরপূর্বক কাজ ছিল না।’
এই ঘটনায় মার্তিনেজ তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ম্যাচের শুরুতেই লিডসের একটি চ্যালেঞ্জে ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরো আঘাতপ্রাপ্ত হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্যারিক ক্ষুব্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রথম গোলের আগেই লেনি ইয়োরোর ওপর অবৈধ আঘাত করা হয়েছিল, যা রেফারি অবহেলা করেছেন।’
পরাজনের পরও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ৩২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৫৫ পয়েন্ট। আগামী ১৮ এপ্রিল রাত ১টায় তারা চেলসির মুখোমুখি হবে, যেখানে জয় পেতে মরিয়া থাকবে ইউনাইটেড।