ট্রাম্প শুল্ক এড়াতে জাপানের প্রচেষ্টা মার্কিন প্রকল্পের জলবায়ু প্রভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে

জাপানের সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক জটিলতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক থেকে মুক্তির বিনিময়ে তিনটি বড় প্রকল্পে মোট ৫.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগ মার্কিন অবকাঠামো উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ট্রাম্পের শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মোট মূল্যমান দাঁড়িয়েছে ৫৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
জাপানের এই বিনিয়োগ প্রকল্প তিনটি প্রধান স্থাপনার ওপর কেন্দ্রীভূত, যার মধ্যে রয়েছে ওহাইওর একটি বৃহৎ গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র, টেক্সাসে একটি কাঁচা তেল রপ্তানি সুবিধা এবং জর্জিয়ায় একটি সিন্থেটিক হীরার কারখানা। তবে এই প্রকল্পগুলোকে ঘিরে পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র সমালোচনা উঠেছে। জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের ২৯টি পরিবেশ সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট এই প্রকল্পগুলোর কারণে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের মাত্রা জাপানের বার্ষিক মোট নিঃসরণের প্রায় ২০ শতাংশের সমান হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওহাইওর গ্যাস-চালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধরনের একটি হবে এবং এটি ৯.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রাখবে। এই প্রকল্পটির উন্নয়নে জাপানের টোশিবা এবং সফটব্যাঙ্ক গ্রুপের মতো বড় কোম্পানিগুলো জড়িত থাকার কথা রয়েছে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা জোর দিয়ে বলছেন, জাপানি সরকারকে জনসাধারণের অর্থ দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে আর সমর্থন না করার আহ্বান জানাতে হবে।
গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব বাড়লেও, এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নতুন করে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির আশঙ্কা পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে, জাপানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারমাণবিক শক্তিকে গ্রহণযোগ্যতা বাড়লেও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি আরও জোরদার হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, জাপানের সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে একটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে—কিভাবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে পরিবেশগত দায়বদ্ধতা সামঞ্জস্য করা যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এই প্রকল্পগুলোর পরিবেশগত প্রভাব এবং জাপানের জলবায়ু নীতিমালার দিকে নিবদ্ধ হচ্ছে।