‘এসো হে বৈশাখ’ গানে নতুন বছর বরণ করল ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী

ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত জানাতে ঐতিহ্যবাহী ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় সংগীতশিল্পী সমর বড়ুয়ার পরিচালনায় এই উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশিত হয়, যেখানে গোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পরবর্তী কালে পরিবেশিত হয় ‘আজও আছে একতারা আর নকশিকাঁথার মাঠ’ এবং ‘বাজে কী মধুর সুরে বাজে বাংলাদেশি বাঁশি’ গানগুলো, যা নববর্ষের আবেগ ও সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
ঢাকার শিশুপার্কের সামনে অনুষ্ঠিত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুরশীদ আলম। অনুষ্ঠানটি চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং এবারের আয়োজনটি ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর ৪৩তম বর্ষবরণ উৎসব। সকাল সাতটা থেকেই দর্শক ও শ্রোতারা উপস্থিত হতে শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই বোন ওয়াসফিয়া ফারুক (১১) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (১০) গালে ‘শুভ নববর্ষ’ আলপনা আঁকিয়ে অভিভাবকের সঙ্গে বর্ষবরণে অংশ নেন। ওয়াসফিয়া জানান, তারা আগেই উৎসবের প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং অনুষ্ঠানের আগে রমনায় গান শোনার সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিল।
বৈশাখী সাজে উপস্থিত আফজান বেগম বলেন, ‘১৯৯২ সাল থেকে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছি। ফকির আলমগীরের ভক্ত হিসেবে তাঁর গান এখনও হৃদয়ে বেঁচে আছে। তাঁর অনুপস্থিতি অনুভূত হলেও এই আয়োজন মিস করি না।’ তিনি বলেন, সকাল থেকে এখানে এসে অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন এবং আয়োজনকে প্রশংসা করেন।
গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী ১৯৮৩ সাল থেকে পয়লা বৈশাখের সকালে নববর্ষ উদযাপন করে আসছে। পূর্বে শাহবাগের নারকেল বীথি চত্বরে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ২০২১ সাল থেকে শিশুপার্কের সামনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের বর্ষবরণ উৎসব ফকির আলমগীরকে উৎসর্গ করা হয় এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গোষ্ঠীর সভাপতি সুরাইয়া আলমগীর।