এশিয়ার বিমান পরিবহন অস্থিতিশীলতায়, ইরানের যুদ্ধ জেট ইন্ধনের দুর্বলতা প্রকাশ করল

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিমান পরিবহন খাতে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। জেট ফুয়েলের ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাকিস্তান থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের পরিবহন নিয়ন্ত্রণ শুরু করলে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় এবং সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিমান সংস্থাগুলো তাদের পরিচালনা ক্ষমতা হ্রাস করছে। ম্যানিলায় ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তারা “অবাধ চলাচলে বিঘ্ন কমানোর জন্য কাজ করছে” এবং পরিস্থিতি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত পাঁচটি রুট পুনর্বিবেচনা করবে।
মার্চ মাসে ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের প্রধান বিমান সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স প্রতি সপ্তাহে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া, এপ্রিলে এয়ার নিউজিল্যান্ড ঘোষণা করেছে, তারা প্রায় ৪ শতাংশ ফ্লাইট এবং ১ শতাংশ যাত্রী পরিষেবায় “সমন্বয়” সাধন করেছে।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেইজিং, কুয়ালালামপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, মে মাস পর্যন্ত সেখানে যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিলের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ট্রাফিক আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এই পদক্ষেপের ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিমান পরিবহন খাতে আরও বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।