ট্রাম্প দাবি করেছেন, যিনি চিকিৎসক হিসেবে যীশুর মতো মিম তৈরি করেছিলেন, সেটিই তিনি ছিলেন যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নিজের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন, যা তিনি নিজেকে যীশু খ্রিস্টের মতো দেখিয়েছেন বলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই পোস্টটি পরে তিনি মুছে ফেললেও, ট্রাম্প দাবি করেছেন এটি আসলে তাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা ছিল। তিনি বলেন, এটি ছিল রেড ক্রসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ছবি, যেখানে তিনি রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসে একটি আকস্মিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, "এটি কোনো কল্পনার চিত্র নয়, এটি আমি নিজেই পোস্ট করেছিলাম। আমি ভাবেছিলাম এটা আমাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে দেখাচ্ছে, কারণ সেখানে রেড ক্রসের একজন কর্মী ছিলেন, যাদের আমরা সমর্থন করি। এই ধরনের বিষয় কেবলমাত্র মিথ্যা সংবাদই গড়ে তুলতে পারে।"
বিষয়টি ছিল একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি ছবি, যেখানে ট্রাম্পকে যীশুর মতো প্রাচীন পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ছবিতে তিনি একটি অসুস্থ ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে আছেন, যেখানে তার হাত থেকে আলোর ঝলক ছড়িয়ে পড়ছে এবং আকাশ উজ্জ্বল হয়েছে। আশেপাশে অন্য ব্যক্তিরাও তাকিয়ে রয়েছেন, কেউ কেউ প্রার্থনার ভঙ্গিতে হাত জোড়া করে আছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, "আমি মাত্র শুনেছি এই ছবি সম্পর্কে, এবং আমি ভাবলাম, তারা এটা কীভাবে বানালো? এটি আমার একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের সুস্থ করার প্রতীক। আর আমি সত্যিই মানুষকে সুস্থ করি।" তিনি আরও বলেন, এই ছবির মাধ্যমে তিনি মানুষের জন্য তার সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।
এদিন ট্রাম্পের পাশে ছিলেন ডোরড্যাশের এক চালক শ্যারন সিমন্স, যিনি তাকে ম্যাকডোনাল্ডস থেকে খাবারের দুটি ব্যাগ পৌঁছে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক "টিপসের ওপর কোনো কর নেই" নীতির প্রশংসা করেন, যা রিপাবলিকানদের ২০২৫ সালের বাজেট পুনরায় সমন্বয় বিলের অংশ। এছাড়াও, ট্রাম্প ডোরড্যাশ চালককে প্রশ্ন করেন, তিনি কি মনে করেন পুরুষদের নারীদের খেলায় অংশ নেওয়া উচিত কিনা।
এই বিতর্কের পেছনে মূলত ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং পোপ লিওর সঙ্গে গভীর বিরোধের প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা আমেরিকার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই ছবি এবং তার ব্যাখ্যা নতুন করে বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে, যেখানে তার সমর্থকরা তাকে রোগীদের সেবায় নিবেদিত একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখছেন, অপরদিকে সমালোচকরা এটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছেন।