সর্বশেষ
কুয়েত মৈত্রী হলের পানি পানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগকনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেনফারাক্কা বাঁধ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে: ফখরুলওয়াশিংটনের ওপর আস্থা নেই তেহরানের, চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেই আলোচনা: আরাগচিরাজধানীতে পৃথক অভিযানে শতাধিক গ্রেপ্তারনিয়োগের ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের এসপিকে প্রত্যাহারচকবাজারে প্লাস্টিক কারখানায় শ্রমিকের মরদেহ, পুলিশের ধারণা খুনকলকাতার আরজি করে ধর্ষণ ও হত্যা: গাফিলতির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন শুভেন্দুকুয়েত মৈত্রী হলের পানি পানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগকনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেনফারাক্কা বাঁধ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে: ফখরুলওয়াশিংটনের ওপর আস্থা নেই তেহরানের, চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেই আলোচনা: আরাগচিরাজধানীতে পৃথক অভিযানে শতাধিক গ্রেপ্তারনিয়োগের ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের এসপিকে প্রত্যাহারচকবাজারে প্লাস্টিক কারখানায় শ্রমিকের মরদেহ, পুলিশের ধারণা খুনকলকাতার আরজি করে ধর্ষণ ও হত্যা: গাফিলতির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন শুভেন্দু
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলায় ইউরোপে নতুন রাশিয়ার হুমকি

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলায় ইউরোপে নতুন রাশিয়ার হুমকি

গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে ব্যাপক সন্ত্রাসমূলক আঘাত হানিয়েছে, যা রাশিয়াকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা দিতে বাধ্য করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার বহু গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং তেল রফতানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষায় নিযুক্ত কোম্পানিগুলো ইউক্রেনের সঙ্গে অস্ত্র ও ড্রোন উত্পাদনে মিলিত হওয়ায় এটি পুরো ইউরোপীয় মহাদেশে সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থা অতিরিক্ত উত্তেজনার দিকে ধাবিত করছে। রাশিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ইউরোপীয় নেতাদের এই পদক্ষেপ যুদ্ধকে এত বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে যে, তারা নিজ দেশকেও রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে।

রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি ধুমিত্রি মেডভেদেভ বলেন, ইউরোপীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দিয়ে যেসব তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো হলো রাশিয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা লক্ষ্য। ইতোমধ্যে জার্মানি তিনশত মিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং ব্ল্যাক মার্কেটে রুশ সরবরাহ শৃঙ্খল ভঙ্গ করার লক্ষ্যে ৫ হাজার মধ্যপাল্লার ড্রোন কিনবে। নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামও বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ নিয়ে ড্রোন ও সামরিক সহযোগিতায় জড়িত হয়েছে।

গত মার্চ মাসে বিশ্বে চলমান তেল যোগানের সংকটের ফলে রাশিয়ার গ্যাসপ্রমসহ বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলো বিশাল লাভে ছিল। তবে ইউক্রেনের ক্রমাগত হামলার কারণে রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষমতা প্রায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক হারিয়েছে এবং বিশ্ববাজার থেকে তাদের এই লাভের বড় অংশ বাতিল হয়ে গেছে। ইউক্রেনের আক্রমণ লক্ষ্যবস্তু ছিল বিভিন্ন ড্রিলিং প্ল্যাটফর্ম, পাইপলাইন, পাম্পিং স্টেশন, তেল তল্লাশি ও পরিশোধনাগার প্রভৃতি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তাদের দীর্ঘপাল্লার সামরিক হামলা এখন আর অবাক করার মত কিছু নয়, কারণ তারা রাশিয়ার গভীরে সহজেই আঘাত করতে পারছে। তবে রাশিয়া যথেষ্ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রস্তুত করতে না পারায় তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বলতর হচ্ছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ালার মত গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া ড্রোন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা দল প্রস্তুত করতে পারেনি।

২০২৫ সালে পশ্চিমা সহযোগিতায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামর্থ্য শতকরা পঞ্চাশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন বর্তমানে স্ব-নির্মিত বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ড্রোনের সংখ্যা ত্রিশের কাছাকাছি।

মার্চ শেষ এবং এপ্রিলের প্রথম দশকে রাশিয়ার বাল্টিক সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে, বিশেষত প্রিমরস্ক ও উস্ট-লুগায় ইউক্রেনের হামলায় তেল সংরক্ষণাগারের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি ও বাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুটি বন্দর থেকে তেল পরিবহনে বিশাল হ্রাস ঘটেছে। জুলাই পর্যন্ত বিদ্যমান আক্রমণে প্রিমরস্ক বন্দরের প্রায় অর্ধেক সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইউক্রেনের হামলায় পুড়ে গেছে বড় পরিমাণ তেল।

উত্তর ক্যাস্পিয়ান সাগরে, ভলগোগ্রাদ ও ক্রাসনোদার ক্রাইয়ের পাম্পিং স্টেশনসহ রাশিয়ার বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চলেও ইউক্রেন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানিয়েছে। এ কারণে রাশিয়া সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের বড় আর্থিক ক্ষতিই একমাত্র শক্তি যা রাশিয়াকে এই যুদ্ধ পরিহার করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে।

সর্বশেষ ঘটনাবলী থেকে স্পষ্ট যে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এতে রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে হুমকি উচ্চারণ করেছে। পুরো বিষয়টির মধ্যে রয়েছে ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ধরনের কার্যক্রম ও উদ্বেগ, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলে যুদ্ধ বিরতি ও শান্তির উদ্যোগকে প্রভাবিত করতে পারে।