দক্ষিণ আফ্রিকার শ্রেষ্ঠ ম্যারাথনে পুরুষ যেভাবে নারী দাবিতে প্রতিযোগিতা করল

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ টাউনে অনুষ্ঠিত অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দুই মহাসাগর ম্যারাথনে পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত দুটি দৌড়বিদ নারী হিসাবে অংশগ্রহণ করে প্রতারণার আশঙ্কায় নেই। এই প্রতিযোগিতায় দুই পুরুষ রানার নারী দৌড়ে অংশ নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ার পর তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বার্ষিক এই দুই মহাসাগর ম্যারাথন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আইকনিক ম্যারাথন হিসেবে বিবেচিত, যেখানে ৫৬ কিলোমিটার পরিবহণশীল আলট্রা ম্যারাথন এবং ২১.১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতায় ১৬ হাজারেরও বেশি দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রকার আন্তরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শীর্ষ দশের মধ্যে স্থান পাওয়া দৌড়বিদদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। কিন্তু এবারের প্রতিযোগিতায় পুরুষ দৌড়বিদ লুক জ্যাকবস এবং নিক ব্র্যাডফিল্ড যথাক্রমে সপ্তম ও দশম স্থান অর্জন করলেও পরে দেখা যায় তারা নারী দৌড়ে অংশ নেয়ার জন্য নিজস্ব নম্বরের পরিবর্তে নারীদের নম্বর ব্যবহার করেছেন।
তাদের এই দুর্নীতির তথ্য ম্যারাথনের বোর্ড সদস্য স্টুয়ার্ট মান্নের কড়া অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়। তিনি জানান, জ্যাকবস সামাজিক মাধ্যমে নিজ দৌড়ের ছবি পোস্ট করার সময় তার নম্বরের উপর ‘লারিসা’ নামটি প্রদর্শিত হওয়ায় সন্দেহ হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় তিনি লারিসা পারেখ নামের একজন নারী রানারের নম্বর ব্যবহার করেছিলেন যারা মূলত নারী দৌড়ে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ছিলেন।
আরও তদন্তে বেরিয়ে আসে, ব্র্যাডফিল্ড একজন নারী দৌড়বিদ টেগান গার্ভের নম্বর ব্যবহার করেছিলেন। গার্ভ ম্যারাথনের আগেই হিপে আঘাত পেয়ে দৌড় ছেড়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেন এবং নম্বর অন্যকে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মান্ন আরও জানান, নম্বর বিনিময় বা প্রতারণা কৌশলটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং তা জরুরি অবস্থায় ভুল চিকিৎসা প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করে। কখনো কখনো এই কসরত আসে দৌড়বিদ নিজেই কোনও কারণে দৌড়ে অংশ নিতে অপারগ হলে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে, আবার কেউ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় ভাল সময়ের সুযোগ নিতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে।
স্টুয়ার্ট মান্ন বলেন, “এই কাজ দৃশ্যত প্রতারণা এবং খেলাধুলার নৈতিকতার বিরুদ্ধে। আমরা এমন কেউই দেখতে চাই না যিনি নিজের সাফল্য অন্যের উপরে ভিত্তি করে অর্জন করতে চায়।”
এদিকে, লুক জ্যাকবস ও নিক ব্র্যাডফিল্ড দুজনই এই প্রতারণার জন্য ঔপچارিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দুই বছর মেয়াদে এই ম্যারাথনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার শাস্তি পেতে পারেন। পাশাপাশি, নং বিনিময়ে নাম জড়িত নারী দুই জনকেও সমন্বিত শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ঘটনাটি বিশ্বদরবারে সৎভাবে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদদের কৃতিত্বকে ছায়ায় ফেলেছে, যা এই খেলার নৈতিকতার রক্ষাকারীদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে আগুমান্য।