সর্বশেষ
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে, World Cup 2026: FIFA chief Infantino defends pricing and tickets in USনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, Iran rejects Trump claim on deal to surrender nuclear material stockpilesTrump seeks ‘resolution’ of his $10bn lawsuit against IRS, spurring concernসংবাদ সূত্রে জানা গেছে, US judge blocks Justice Department bid to seize voter data in Rhode Islandমস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ভাবনা।বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টিকিটের দাম নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন ইনফান্তিনোত্রিপুরা পার্বত্য পরিষদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় আদিবাসী দল টিপরা মোথারইরান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ধাক্কার মধ্যে মুনাফা করল কারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে, World Cup 2026: FIFA chief Infantino defends pricing and tickets in USনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, Iran rejects Trump claim on deal to surrender nuclear material stockpilesTrump seeks ‘resolution’ of his $10bn lawsuit against IRS, spurring concernসংবাদ সূত্রে জানা গেছে, US judge blocks Justice Department bid to seize voter data in Rhode Islandমস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ভাবনা।বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টিকিটের দাম নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন ইনফান্তিনোত্রিপুরা পার্বত্য পরিষদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় আদিবাসী দল টিপরা মোথারইরান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ধাক্কার মধ্যে মুনাফা করল কারা
Live Bangla Logo

পারস্য উপসাগরে পারমাণবিক সমঝোতার সন্ধানে পাকিস্তানের সমন্বিত কূটনীতি

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
পারস্য উপসাগরে পারমাণবিক সমঝোতার সন্ধানে পাকিস্তানের সমন্বিত কূটনীতি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিতরণ মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় দেশ সফর এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রধানের ইরান সফর, এমন সময় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি 'সন্নিকটে' আনার কথাটি বলছেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে ব্যাপক সম্মতি দিয়েছে এবং শীঘ্রই এই ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার আশাবাদ দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তাদের প্রধান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করার জন্যও সম্মত হয়েছে, যা অন্যথায় পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহার হতে পারে। ট্রাম্প জানান, যদি এই চুক্তি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি নিজেও সেখানে সফর করতে পারেন।

অন্যদিকে, ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাঈল বাঘায়ী দাবী করেন যে, শিল্পীভিত্তিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের তাদের সার্বভৌম অধিকার বজায় থাকবে এবং তারা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে ইচ্ছুক নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম তাদের শান্তিপূর্ণ উচ্চ প্রযুক্তির অধীনে থাকবে এবং এটি জাতিসংঘের পারমাণবিক প্রাদুর্ভাব বন্ধ সংক্রান্ত চুক্তি ও ২০১৫ সালের যুগ্ম সামগ্রিক কর্মপরিকল্পা (জেসিপোয়া) এর আওতায় সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, ট্রাম্প এবং ইরানের এই দুই বিবৃতির মধ্যে পার্থক্যকে সরলভাবে 'মিথ্যা বক্তব্য' হিসেবে দেখা ঠিক নয়, বরং এটি চলমান জটিল ও বহুমাত্রিক আলোচনার প্রতিফলন। পাক-ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই পারমাণবিক আলোচনা এখন ধাপযোগ্য ধাঁধার মতো যেখানে পুরো চুক্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

তবে, পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। সারা সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে অনেকবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। একই সময়ে, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ খाड़ी ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে মলোদ্ধ করে আসছেন।

পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। বিবৃতি অনুযায়ী, ইসলামাবাদ হবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মূল কেন্দ্র, যেখানে পরবর্তী উচ্চস্তরের বৈঠকসমূহ অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সাবধান করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা, কারণ শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক ইচ্ছার ওপর।

এদিকে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অগ্রিম সমর্থনে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ইরানের একজন প্রাক্তন ক্রান্তীয় গার্ড কোরস (আইআরজিসি) কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী সম্প্রতি বলেছিলেন, তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত। একইসাথে, ইরানের সামরিক কমান্ডাররা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং সমুদ্রবন্দরে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দশ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান, যা ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, ওই অঞ্চলের শান্তিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান এই যুদ্ধবিরতির সঙ্গে যুক্ত মার্কিন-ইরান আলোচনায় লেবাননের শান্তিকে অপরিহার্য বলে প্রতিষ্ঠা করেছে।

এই নানাবিধ রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক গতিপ্রক্রিয়ার মেজাজে, এপ্রিল ২২ তারিখে নির্ধারিত যুদ্ধবিরতি ডেডলাইনকে কেন্দ্র করে চাপ বাড়ছে। আলোচনা কতটা সফল হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কতটা বাস্তব অগ্রগতি আসবে, তা সময়ই বলবে।