প্রতিকূলতার মধ্যেও হরমুজ জলডাঙা সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা ইরানের

ইরান সরকার জানিয়েছে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালী সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং জানান যে, যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে এই নৌপথ নিরাপদ রাখা হবে।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ঘোষিত ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি ইসরাইল এবং লেবানের মধ্যে কার্যকর হবে। যদিও হেজবোল্লাহ যাধূপদ অর্থাৎ ইরানের সঙ্গস্থিত লেবানি বিদ্যালয়, এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয় কিনা তা স্পষ্ট নয়।
আরাঘচির বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক অধিদপ্তরের দ্বারা নির্ধারিত পথ অনুসরণ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলি চলাচল করবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তার দাম কমে প্রায় আটাত্তরে পৌঁছেছে, যা দিনের হিসাবেএলাপ শেষ হওয়ার পরপ্রায় ১১.৫ শতাংশ পতন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে জানান, এই প্রণালী "সম্পূর্ণরূপে খোলা এবং বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক নৌ অবরোধ বজায় রাখবে যতক্ষণ না তারা সমঝোতায় পৌঁছায়। ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিজে কখনো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে না এবং এ প্রণালীকে বিশ্ববাজারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।
এক ইরানি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক চরিত্রের বাহনসমূহকে না দিয়ে শুধুমাত্র বেসামরিক জাহাজদের প্রবেশকে অনুমতি দেওয়া হবে। যাতে, ইরানি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড করপস নেভি তাদের অনুমোদন প্রদান করবে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের ফলে সাত হাজারের অধিক প্রাণহানি ঘটেছে। এই সংঘাতে ইরান এক পর্যায়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় যা বিশ্বের পেট্রোলিয়ামের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর কঠোর নৌ অবরোধ জারি রেখেছে, যা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা বিফল হওয়ার পর থেকে আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এ অবরোধকে ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির একটি কৌশল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে রাখা। তিনি দাবী করেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তাদের কি পাওনা হবে সেটাই আসল প্রশ্ন। তিনি আরও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফেরত আনার উদ্যোগ নেবে, যা আলোচনার একটি অংশ হতে পারে।
এদিকে, ট্রাম্প শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, লেবাননে ইসরাইল আর বোমাবর্ষণ করবে না এবং ইরানের সঙ্গে যেকোনো বাণিজ্য বা সমঝোতা লেবানের পরিস্থিতিতে নির্ভর করবে না। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "ইসরাইল আর লেবাননে হামলা চালাবে না। এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।"
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ফোর্সের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা লেবানের দক্ষিণাঞ্চলে কোনো বায়ু হামলা লক্ষ্য করেনি যদিও ইসরাইলি বাহিনী তাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে বারুদ নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন, কি না তা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে হেজবোল্লাহর প্রভাব হ্রাস পাবে।