তেলের দাম ইতিহাসে নিম্নমুখী, হরমুজ প্রণালী নতুন সংকটে

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তেল বাজারে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে তেলের দাম কয়েক সপ্তাহে ৯১ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা গত মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে ইরানের হরমুজ প্রণালী খোলা এবং তারপর ফের তা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষনা দেন, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের অর্জুনা যুদ্ধবিরতির সময় এই নৌ পথটি সম্পূর্ণভাবে যাতায়াতের জন্য চালু থাকবে। এই ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ঝটকায় ৯ শতাংশের বেশি কমে ৯০.৩৮ ডলার প্রতি ব্যারেল পৌঁছে, যা গত কয়েক সপ্তাহে প্রথমবার ৯১ ডলারের নিচে আগমন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী এখন «পুনরায় বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত» রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে জানান, ইরানের বন্দরের উপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলতেই থাকবে যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক ও অন্যান্য সংকট সমাধানের জন্য চুক্তি হবে।
কিন্তু এই আশার মাঝেই ইরান হঠাৎ করেই প্রবাহ আবার স্থগিত করে দেয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর থাকায় হরমুজ প্রণালী থেকে যানবাহন চলাচল অবরুদ্ধ থাকবে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব তেল সরবরাহকে আরও সংকুচিত করবে এবং ভবিষ্যতে তেলের দর পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। বিশ্বজুড়ে দৈনিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে সরবরাহ হয়, তাই এটির অবস্থা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপর দিকে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ২২ এপ্রিল নির্ধারিত যুদ্ধবিরতি সময়সীমার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অগ্রগতি আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সামুদ্রিক যান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালী পারাপারকারী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা যুদ্ধের সূত্রপাতের পর থেকে সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ের কাছাকাছি।
যদিও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান সীমিত সংখ্যক ভেরিফায়েড জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবু সামগ্রিকভাবে চলাচল পূর্বের তুলনায় খুবই কম। এই প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র ধাক্কা লেগেছে, যার প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়েছে এবং বহু সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম ব্যাপক ওঠানামা করছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের উপর সামরিক হামলা চালায়, তখন থেকে তেলের দাম তীব্রতা পায় এবং মার্চ মাসে প্রতি ব্যারেলের মূল্য সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে পৌঁছে। এখন পরিস্থিতি আবার পরিবর্তনশীল হয়ে উঠছে, যা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলে।