আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে হচ্ছেন বিএনপির এমপি

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীতদের নামের চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাদিয়া পাঠান পাপন।
তিনি বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দা নাখলু আক্তার দম্পতির মেয়ে।
সোমবার বিএনপির পক্ষ থেকে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
পরিবার জানায়, নাদিয়া পাঠান পাপন চান্দুরা ইউনিয়নের দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, উপজেলার কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
নাদিয়া পাঠান পাপনের বাবা অনেক বছর আগেই মারা গেছেন।
বিএনপির তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে নাদিয়া পাঠান পাপনের মা সৈয়দা নাখলু আক্তারের আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিষয়টি আলোচনায় আনেন অনেকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৈয়দা নাখলু আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি এবং বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি।
তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির মনোনীতদের তালিকায় নাম থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দা নাখলু আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার রাজনীতির সঙ্গে মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি বলেন, “আমি আগে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলাম, বর্তমানে নেই।”
তবে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা বিকাল ৪টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেই স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সৈয়দা নাখলু আক্তার মহিলা আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে বহাল আছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে নাদিয়া পাঠান পাপনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয় না। সংসদের নির্বাচিত এমপিরাই ভোট দেন। তবে সাধারণত যতটি আসন, ঠিক ততজন প্রার্থীই দল মনোনয়ন দেয়। তাই এখানে আসলে ভোটের প্রয়োজন হয় না। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা প্রায় নিশ্চিতভাবেই এমপি হয়ে যাবেন- যদি মনোনয়ন বাতিল না হয় বা তারা সরে না দাঁড়ান।
আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্ররা ১টি আসনে পাবে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল। আর ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে ১২ মে।