বান্দরবান আওয়ামী লীগের পিপি মাধবী মারমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন।

বান্দরবান, সোমবার (২০ এপ্রিল): পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। তবে তার মনোনয়নকে ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে ও সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। এতে পার্বত্য অঞ্চলের এ আসনে মাধবী মারমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, মাধবী মারমা আগে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিটিং-মিছিল বা সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বান্দরবানে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার আমলে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
এমন প্রেক্ষাপটে ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন না করে তার মতো একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মনোনয়নবঞ্চিত জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম লীনা বলেন, দলের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান জানান। তবে এতে ভবিষ্যতে ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পরও প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাননি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, দুঃসময়ে রাজপথে থাকা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সেটিকে দলীয়ভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একাংশ এ মনোনয়নে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত ত্যাগী নেত্রীদের উপেক্ষা করে নতুন মুখকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, মাধবী মারমা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন। এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।