
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মৌলভীবাজারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুহিবুর রহমান। তার মৃত্যুর খবরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সম্পদপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া; পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার দরিদ্র পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর মশহুদ মিয়ার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন মুহিবুর। অভাব-অনটনের মাঝেও সবার সহযোগিতায় স্কলারশিপ নিয়ে ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যান তিনি। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২৫ সালে মায়ের অসুস্থতার খবরে এক মাসের ছুটিতে দেশে ফিরে পরিবারের সিদ্ধান্তে আমতৈল ইউনিয়নের খূশালপুর গ্রামের রায়িসা জান্নাতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবার রাশিয়ায় ফিরে যান তিনি।
রাশিয়ায় গিয়ে পরিবারের ঋণ ও আর্থিক সংকটের চাপে পড়েন মুহিবুর। এই সুযোগে মানবপাচারকারী দালাল চক্র তাকে প্রলোভন দেখায়—রুশ বাহিনীতে বাবুর্চির কাজ করলে ভালো বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাজি হলেও পরে তাকে জোরপূর্বক যুদ্ধের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি রণক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
রণক্ষেত্র থেকে মাঝেমধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলতেন, যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব ও অর্থ নিয়ে ফিরবেন। তবে গত তিন থেকে চার মাস ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
অবশেষে গত ১৭ এপ্রিল এক সহপাঠী যোদ্ধার মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ইউক্রেনে ড্রোন হামলায় রুশ বাহিনীর একটি বাঙ্কার ধসে পড়ে। সেখানে অবস্থানরত অন্যদের সঙ্গে মুহিবুর রহমানও নিহত হন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে।