ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা: রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করল পুলিশ।

ঢাকার ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তার (১৬) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অনলাইন জুয়ার টাকার নেশায় পড়ে প্রতিবেশী এক যুবক তাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামীম ওরফে স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান এসব তথ্য জানান। এর আগে শুক্রবার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত স্বপন ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। একই বাড়ির অন্য কক্ষে নানির সঙ্গে বসবাস করতেন নিহত নাহিদা।
ঘটনার দিন বিকেলে নাহিদার নানি দুধ কিনতে বাইরে গেলে একা থাকার সুযোগ নেয় স্বপন। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে দরজা খুলে দিলে সে নাহিদার কাছে টাকা ধার চায়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে অভিযুক্ত। এরপর নাহিদার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় সে।
নানি বাসায় ফিরে নাহিদাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ স্বপনকে গ্রেপ্তার করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন স্বপন। সেই ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। ইতোমধ্যে নিহতের কানের দুল ও হত্যায় ব্যবহৃত পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত নাহিদা ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তার মা প্রবাসে এবং বাবা বরিশালে কর্মরত। পড়াশোনার জন্য তিনি নানির কাছে থাকতেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি।