বিধবার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এএইচএম আজিজ আজমীরের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের শহীদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পারুল আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে পারুল আক্তার দাবি করেন, চাঁদা না পেয়ে তার দোকান ও জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে ও তার সন্তানদের মারধর করে আহত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একাধিকবার তাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ সময় তার তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার স্বামী হাজী হোসাইন আহাম্মদ জীবদ্দশায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের শান্তির হাট বাজারে একটি মার্কেটসহ ১৫৫ শতাংশ জমি তার ও সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এছাড়া সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে আরও তিন একর জমি দেন। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল স্বামীর মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আজমীর তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় অভিযুক্তের নেতৃত্বে কয়েক দফায় হামলা চালিয়ে তাদের আহত করা হয় এবং শান্তির হাট বাজারের মার্কেটের দোকানগুলো দখল নিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন বলে জানান।
পারুল আক্তার আরও অভিযোগ করেন, সুবর্ণচরের কৃষিজমিও দখল করে নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে বসুরহাট পৌর বিএনপি সভাপতি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মারধর বা আটকে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তিনি কাউকে উদ্ধারও করেননি। তার দাবি, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত এএইচএম আজিজ আজমীরও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষ তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। মার্কেট দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কেটটি পারুল আক্তারের নামে নয়; প্রথম স্ত্রীর সন্তান মো. সিরাজুল ইসলামের নামে। তিনি ওই মার্কেটের ১১টি দোকান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া নিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং পারুল আক্তার জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে মার্কেট দখলের চেষ্টা করছেন।