৩ দিনের রিমান্ডেও ধর্ষণের কথা অস্বীকার ইমামের, ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগর দোষ স্বীকার করেননি। তিনদিনের রিমান্ড শেষে রোববার (১০ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ তার ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানায়।
আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
নেত্রকোনা কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম অভিযুক্ত সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে ক্লাস শেষে ওই শিশুকে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদে ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলেন শিক্ষক সাগর। অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার সুযোগে সাগর শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সে সময় শিশুটি চিৎকার করলে তাকে মারধর ও মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় মসজিদের বারান্দা সংলগ্ন কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।
গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির মা হঠাৎ মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা করালে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।
মামলার পর গত ৫ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪। গত বৃহস্পতিবার আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে আজ রোববার তাকে আদালতে তোলা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা নিশ্চিতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।