মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, গবেষণা করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তা নির্ণয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (১৩ মে) এ আদেশ দেন।
দেশের মুঠোফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত বিকিরণের মাত্রা নিয়ে জনস্বার্থে ২০১২ সালে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন।
সেই রায়ে ঘরবাড়ির ছাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উপাসনালয়, জেলখানা ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত বিকিরণের ওপর সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালতপাড়াসহ জনসমাগমস্থলে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিরুৎসাহিত করতে গাইডলাইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়। সমীক্ষা শেষে বিটিআরসিকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বিটিআরসি একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। তবে ওই প্রতিবেদনের ওপর আপত্তি জানিয়ে বিকিরণের মাত্রা আরও কমানোর বিষয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ মতামত চাওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান মতামত দেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে তিনি মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা কমানোর সুপারিশের পাশাপাশি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণে পৃথক গবেষণার প্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত বিটিআরসিকে বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা পরিচালনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজুর নাহিদ।
পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।